Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
১৪ বছরের কিশোরীদের জন্য বড় সুখবর, রাজ্যে বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ অভিযানের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

১৪ বছরের কিশোরীদের জন্য বড় সুখবর, রাজ্যে বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ অভিযানের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

tips24 1 week ago

রাজ্যজুড়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি। বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা প্রদান করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজস্থানের আজমেরে দেশব্যাপী এই টিকাকরণ অভিযানের সূচনা করেছিলেন, তারই অঙ্গ হিসেবে আজ রাজ্যজুড়ে এই কার্যক্রম শুরু হলো।

রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ইতিমধ্যেই রাজ্য পর্যায়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে জেলা স্তরে প্রশিক্ষণের কাজ চলছে এবং শীঘ্রই তা ব্লক স্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই টিকাকরণ কর্মসূচিটি নিরবচ্ছিন্নভাবে আগামী তিন মাস ধরে চলবে। রাজ্যের সমস্ত সরকারি টিকাকরণ কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে কিশোরীরা বিনামূল্যে এই টিকা গ্রহণ করতে পারবে।

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। টিকা নিতে ইচ্ছুক প্রতিটি কিশোরীকে 'U-WIN' অ্যাপে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কিশোরীর অভিভাবকের মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি (OTP) দিয়ে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে ১৪ বছরের কিশোরীদের জন্য এইচপিভি টিকার দুটি ডোজ অত্যন্ত কার্যকর। প্রথম ডোজ নেওয়ার অন্তত ছয় মাস পর দ্বিতীয় ডোজটি নিতে হবে। এইচপিভি একটি যৌনবাহিত ভাইরাস, যা জরায়ুমুখের ক্যান্সার ছাড়াও অন্যান্য যৌনাঙ্গ ও গলার ক্যান্সার এবং যৌনাঙ্গে আঁচিলের কারণ হতে পারে। এই কর্মসূচিতে মূলত গার্ডাসিল টিকা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা এইচপিভি টাইপ ১৬, ১৮, ৬ এবং ১১-এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে।

তবে কেবল ১৪ বছর বয়সী কিশোরী নয়, যেসব তরুণীর বয়স ১৪-র বেশি এবং যারা সময়মতো টিকা পায়নি কিংবা ইতিমধ্যে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দুটি নয়, বরং মোট তিনটি ডোজ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ছেলেদের ক্ষেত্রেও এইচপিভি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় তাদেরও এই টিকা নেওয়া বাঞ্ছনীয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ রাজ্যের ২৩৫টি কেন্দ্রে একযোগে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাসে রাজ্যের প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ কিশোরীকে এই টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। রাজ্যের মুখ্যসচিব জানান, দেশের মহিলাদের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার তালিকায় জরায়ুমুখের ক্যান্সার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আগের সরকার এই ভ্যাকসিনের গুরুত্ব অনুধাবন করেনি এবং কেন্দ্রের অনুরোধ সত্ত্বেও তা কার্যকর করতে গড়িমসি করেছে। বর্তমান সরকার এই জনস্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য, রাজ্যকে এমন একটি উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় নিয়ে আসা, যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষকে আর মুম্বাই বা চেন্নাইয়ের মতো শহরে পাড়ি দিতে না হয়।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tips 24