Dailyhunt
৯ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর ফের ডাক! ইডি দফতরে কোন 'গোপন নথি' নিয়ে যেতে হবে সুজিত বসুকে?

৯ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর ফের ডাক! ইডি দফতরে কোন 'গোপন নথি' নিয়ে যেতে হবে সুজিত বসুকে?

tips24 2 weeks ago

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের চূড়ান্ত মুহূর্ত যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন অস্বস্তি বাড়ছে শাসক শিবিরের। ভোটের গণনা শুরু হওয়ার ঠিক আগে পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের ইডি-র (ED) কড়া পদক্ষেপের মুখে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী। শুক্রবার দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ফের ৬ মে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

একই সঙ্গে তলব করা হয়েছে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকেও।

৯ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা, চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ শুক্রবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ যখন তিনি বাইরে বেরোন, তখন তাঁর চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ। ইডি সূত্রে খবর, গত ৯ ঘণ্টায় মন্ত্রীর সম্পত্তি এবং পুর-নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। ৬ মে যখন তিনি ফের ইডি দফতরে যাবেন, তখন তাঁর সঙ্গে সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির নথি আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

'চুরি করা অপরাধ, ব্যবসা নয়'- সাফ বার্তা সুজিতের তদন্তকারী সংস্থা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুজিত বসু জানান, তিনি সাক্ষী হিসেবে এসেছিলেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। তবে কেন্দ্রীয় এজেন্সির উদ্দেশে তাঁর সরাসরি হুঁশিয়ারি, "তদন্তে ডাকলে আসব, কিন্তু হেনস্থার জন্য যেন না ডাকা হয়।" সেই সঙ্গে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি মন্তব্য করেন, "ব্যবসা করা কখনও অপরাধ নয়, চুরি করাটাই অপরাধ।" উল্লেখ্য, এর আগে তাঁর ছেলে সমুদ্রকেও তলব করেছিল ইডি।

রথীন ঘোষকেও ৪ মে-র পর তলব সুজিত বসুর পাশাপাশি চাপ বাড়ছে মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষের ওপরেও। ভোটের কারণ দেখিয়ে এর আগে হাজিরা এড়ালেও এবার আর ছাড় মিলছে না। ৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণার ঠিক দুদিন পর তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু হওয়া এই তদন্তের জাল যেভাবে ক্রমশ গুটিয়ে আসছে, তাতে দুই মন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

ভোটের ফলের মুখে রাজনৈতিক তোলপাড় আগামী সোমবার ৪ মে নির্ধারিত হবে রাজ্যের মসনদ কার হাতে থাকবে। তার ঠিক পর পরই দুই মন্ত্রীর এই হাজিরা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। বিজেপি যেখানে দুর্নীতি ইস্যুতে আরও সুর চড়াচ্ছে, সেখানে তৃণমূলের দাবি- রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতেই গণনার আগে ও পরে মন্ত্রীদের টার্গেট করছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এখন দেখার, সোমবারের ফলের পর এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tips 24