সিনেমা পর্দার খলনায়ক থেকে শুরু করে নায়কোচিত রাগী স্বভাব-সব রূপেই তিনি সমানভাবে পারদর্শী। তবে পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনে যে তিনি পুরোপুরি এক মিষ্টি ও মাটির মানুষ, তা বহুবার স্বীকার করেছেন অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan)। জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো 'কৌন বনেগা ক্রোড়পতি' (Kaun Banega Crorepati)-র মঞ্চে এসে প্রায়শই ব্যক্তিগত জীবন, স্ত্রী জয়া বচ্চন (Jaya Bachchan) এবং তাঁদের দীর্ঘ বিবাহিত জীবনের নানা মজার ও অজানা গল্প শেয়ার করে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন এই মেগাস্টার।
তবে সম্প্রতি কেবিসির একটি বিশেষ পর্বে এক প্রতিযোগীর সোজাসাপ্টা প্রশ্নে চরম বিপাকে পড়েন খোদ শাহেনশ। পর্দায় যাঁর এক ইশারায় লাখো ভক্তের বুক কাঁপে, তিনি যে নিজের স্ত্রীর জন্য জীবনে কখনও নিজ হাতে এক কাপ চা-ও বানাননি, সে কথা অকপটে স্বীকার করে নিতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়।
কেবিসির সাম্প্রতিকতম সেই পর্বে পদ্দমিনী নামের এক প্রতিযোগী হঠাৎই অমিতাভ বচ্চনকে সরাসরি প্রশ্ন করে বসেন যে তিনি কখনও তাঁর স্ত্রী জয়া বচ্চনের জন্য নিজ হাতে চা তৈরি করেছেন কি না। প্রতিযোগীর এমন অপ্রত্যাশিত ও কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্নে প্রথমে কিছুক্ষণের জন্য রীতিমতো থমকে যান এবং চুপ করে থাকেন বিগ বি। এরপর সাবলীল ভঙ্গিতে নিজের স্বভাবসিদ্ধ হাসিতে তিনি জানান যে তিনি জীবনের সুদীর্ঘ এই পথ চলায় কখনও স্ত্রীর জন্য চা বানাননি, কারণ তিনি আদতে চা তৈরি করতেই জানেন না। অমিতাভ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "যে মানুষ নিজে চা পান করে না, সে কীভাবে অন্য কাউকে চা বানিয়ে খাওয়াতে পারবে? তাছাড়া আমি লক্ষ্য করেছি যে আমার স্ত্রীও খুব একটা বড় চা-ভক্ত নন। তিনি হয়তো মাঝে মাঝে চা খান, কিন্তু ঠিক কতটা খান তা আমার জানা নেই। আর আমি তো চা বানাতেই পারি না।" তবে এর পাশাপাশি তিনি ঠাট্টা করে এও জানান যে আজকাল তো বাজারে সুতোর পুটলি দেওয়া রেডিমেড টি-ব্যাগের চল হয়েছে, যা গরম জলে ডুবিয়ে দিলেই চা তৈরি হয়ে যায়, যদিও তিনি নিজে কখনও সেটির সদ্ব্যবহার করার সুযোগ পাননি। এমনকি জয়া যদি কখনো শখ করে চা খেতে চান, তবে তিনি এখন থেকে শেখার চেষ্টা করবেন বলেও মজার ছলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, কেবিসির মঞ্চে নিজেদের ব্যক্তিগত অন্দরমহলের নানা মজাদার মুহূর্ত শেয়ার করার অভ্যাস অমিতাভের পুরনো। এর আগেও এই একই মঞ্চে তিনি সবিস্তারে বর্ণনা করেছিলেন কীভাবে গভীর রাতে খেলা দেখার সময় স্ত্রী জয়াকে বিরক্ত না করার জন্য তিনি ও তাঁর ছেলে অভিষেক বচ্চন এক দারুণ বুদ্ধি বের করেছিলেন। জয়া যাতে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারেন, সেই কারণে বাড়ির আলাদা একটি ঘরে তাঁরা আলাদা টিভি সেট বসিয়েছেন, যাতে রাতে গভীর পর্যন্ত ইচ্ছেমতো খেলা দেখা যায়। বলিউডের এই পাওয়ার কাপলের রসায়ন নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহলের অন্ত নেই। ১৯৭৩ সালে ব্লকবাস্টার হিট ছবি 'জঞ্জির'-এর সাফল্যের পর মাত্র পাঁচজন অতিথিকে সাক্ষী রেখে অত্যন্ত গোপনে বিয়ে সেরেছিলেন অমিতাভ ও জয়া। পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে প্রথম দেখার পর থেকে শুরু করে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জীবনের সমস্ত ওঠাপড়া, বিতর্ক ও ঝড়ঝাপটা পেরিয়েও তাঁদের এই জুটি আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও আদর্শ উদাহরণ হিসেবে মাথা উঁচু করে টিকে রয়েছে।

