বর্ষার মরশুমের প্রথম শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় সক্রিয় হওয়ায় কার্যত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ উপকূলবর্তী অঞ্চলে সৃষ্ট একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত এবং একটি সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখার যুগলবন্দিতে আগামী ১০ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া মোকাবিলায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ-উভয় অঞ্চলেই প্রশাসনের তরফ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দিন কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই জেলাগুলিতে প্রায় ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে শুক্রবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা অনেকটাই বাড়বে। এই সময় বজ্রপাত এবং ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় নিচু এলাকায় জল জমার সম্ভাবনা প্রবল। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় শুক্রবার দুর্যোগের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। এখানকার পার্বত্য এবং সমতলের জেলাগুলোতে বৃষ্টির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকবে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি জেলায় 'লাল সতর্কতা' (Red Alert) জারি করা হয়েছে। টানা প্রবল বৃষ্টির ফলে পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা প্রবল। পাহাড়ি রাস্তাগুলোতে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে পারে। উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের জন্য জারি করা হয়েছে 'কমলা সতর্কতা' (Orange Alert)। তবে আশার কথা এই যে, শনিবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও, সেখানে 'হলুদ সতর্কতা' বজায় থাকবে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসন যথেষ্ট তৎপর। সব জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের এই বিশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরবর্তী কয়েক দিন আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল থাকবে। সাধারণ মানুষকে এই দুর্যোগপূর্ণ দিনে অকারণে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার না করার এবং খোলা জায়গা থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো ধরনের জরুরি অবস্থা দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।

