পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষার পরিকাঠামো এবং সরকারি প্রকল্পের রূপায়ণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা CAG-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চলা এই অডিটে শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে যেমন প্রকল্পের টাকা সময়মতো খরচ না হওয়ার তথ্য মিলেছে, তেমনই শিক্ষক ঘাটতি, পরিকাঠামোর অভাব এবং নজরদারির তীব্র ঘাটতির মতো গুরুতর অভিযোগগুলিও রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পাঁচ বছরের মেয়াদে 'সমগ্র শিক্ষা' প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্যের তরফে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হলেও তার ব্যবহারের হার ছিল মাত্র ৪৬ থেকে ৬৫ শতাংশের মধ্যে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রতিশ্রুত এবং প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর পেছনে কেন্দ্রের অনুদান সময়মতো খরচ না হওয়া এবং শংসাপত্র জমা দেওয়ায় দীর্ঘ দেরির মতো বিষয়গুলি উঠে এসেছে। এর পাশাপাশি, হিসাব বহির্ভূত খরচ এবং প্রায় ৬৮২ কোটি টাকার আর্থিক গরমিলের হদিশ মিলেছে। এমনকি ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে অনুমোদিত চার হাজারের বেশি নির্মাণকাজ বছরের পর বছর শুরুই হয়নি, যার ফলে বিপুল পরিমাণ টাকা ফেরত দিতে হয়েছে।
শিক্ষক এবং পরিকাঠামোর বণ্টনেও রয়েছে চরম অসঙ্গতি। রাজ্যের প্রাথমিক স্তরে হাজার হাজার স্কুলে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত অত্যন্ত শোচনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বহু স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক বা সম্পূর্ণ শিক্ষকহীন অবস্থায় পঠনপাঠন চলছে, আবার কিছু জায়গায় প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক বেশি। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেও প্রধান শিক্ষক, কর্মশিক্ষা ও শরীরশিক্ষার শিক্ষকের অভাব স্পষ্ট। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত যাতায়াত ভাতা, এসকর্ট ভাতা এবং প্রয়োজনীয় টয়লেটের তীব্র ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারেও রাজ্য লক্ষ্যমাত্রা থেকে বহু দূরে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, স্কুলে ভর্তির হার কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও মাধ্যমিকের পর উল্লেখযোগ্য হারে পড়ুয়া ঝরে পড়া, পড়াশোনার মান নিয়ে প্রশ্ন এবং স্কুলস্তরে নজরদারি কমিটির নিষ্ক্রিয়তা গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং পঠনপাঠনের মানোন্নয়নে কঠোর নজরদারির সুপারিশ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থটি।

