Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ভেড়ির মাছ চুরি করে ফেঁসে গেলেন তৃণমূল কাউন্সিলর! হাতেনাতে ধরে বিক্ষোভ স্থানীয়দের

ভেড়ির মাছ চুরি করে ফেঁসে গেলেন তৃণমূল কাউন্সিলর! হাতেনাতে ধরে বিক্ষোভ স্থানীয়দের

tips24 1 week ago

ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে মাছ চুরির অভিযোগে উত্তাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা এলাকা। শনিবার ভোরে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বরুণ সরকারকে একটি ভেড়ি থেকে মাছ তোলার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোরের অন্ধকারে বরুণ সরকার তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে একটি মাছের ভেড়িতে হানা দেন। মালিক বা দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই সেখানে মাছ ধরার কাজ শুরু করেন তিনি। ভোরের আলো ফুটতেই বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এরপরই তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাউন্সিলরকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বরুণ সরকারকে উদ্ধার করে পুলিশ প্রথমে থানায় নিয়ে যায় এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাছ চুরির অভিযোগ দায়ের করে গ্রেফতার করে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, কাউন্সিলর বরুণ সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মিত ওই ভেড়ি থেকে মাছ তুলে নিয়ে যেতেন। কিন্তু এদিন তিনি সরাসরি হাতেনাতে ধরা পড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কাউন্সিলরের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন এবং দ্রুত মাছ বোঝাই করে এলাকা ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায় তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, "তৃণমূলের জমানায় বালি, কয়লা তো বটেই, এখন পুকুর বা ভেড়ির মাছও রেহাই পাচ্ছে না।"

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে চুরির মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সুপার শুভেন্দু কুমার জানিয়েছেন, "অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। আমরা অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছি। কাউন্সিলরের সঙ্গে আর কারা ছিল এবং ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনো চক্র সক্রিয় কি না, তা সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখে নিশ্চিত করা হবে।"

বর্তমানে অভিযুক্তকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এলাকায় যেমন ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, তেমনই অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tips 24