ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেস্তে যাওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। অথচ, এই চুক্তি সম্পাদনের সময় পাকিস্তান সরকার বিশ্বমঞ্চে যেভাবে কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, এখন সেই চুক্তি ভাঙার খবরে তাদের চরম নীরবতা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রশ্ন।
কী ঘটেছিল? যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের আলোচনার জন্য পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফসহ সরকারের মন্ত্রীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কূটনৈতিক সাফল্যে নিজেদের ঢাক পিটিয়েছিলেন। কিন্তু কাতারে হওয়া সাম্প্রতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং পরবর্তীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পালটাপালটি হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক এখন অকার্যকর এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করা সময়ের অপচয়।
কেন এই অদ্ভুত নীরবতা? বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে এক 'কূটনৈতিক গোলকধাঁধায়' আটকা পড়েছে। তাদের নীরবতার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা: পাকিস্তান আমেরিকার সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না। তাই মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা পাকিস্তানের পক্ষে অসম্ভব।
ইরানের সাথে সম্পর্ক: সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সহযোগিতার খাতিরে ইরানকেও চটাতে চায় না ইসলামাবাদ। তাছাড়া, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে ইরানের বিরোধিতা করে নিজেদের জনমতের তোপের মুখে পড়তে চায় না পাকিস্তান সরকার।
চীনের অবস্থান: ইরান চীনের অন্যতম প্রধান মিত্র। ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে চীন ক্ষুব্ধ হতে পারে, যার ফলে পাকিস্তানের ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বিব্রতকর পরিস্থিতি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করলেও, হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে পাকিস্তান কোনো আপত্তি জানায়নি। আবার মার্কিন হামলার পর তারা নিশ্চুপ। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বোঝা, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক এবং চীনের চাপ-এই ত্রিমুখী চাপে পাকিস্তান এখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে পাকিস্তান এখন নিজেরাই নিজেদের জালে জড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

