মালদার মোথাবাড়িতে জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর হামলার ঘটনায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট তার বিশেষ ক্ষমতা অর্থাৎ সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা (Article 142) প্রয়োগ করে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তভার এনআইএ (NIA)-এর হাতে তুলে দিয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গোটা তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে খোদ সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজরদারিতে।
কেন ১৪২ ধারা প্রয়োগ? আইনের সাধারণ পথে যখন কোনো জট কাটানো সম্ভব হয় না, তখন সুপ্রিম কোর্ট ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই 'ব্রহ্মাস্ত্র' প্রয়োগ করে। সাধারণত জঙ্গি দমন বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের তদন্ত করে এনআইএ। মোথাবাড়ির ঘটনা সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় আইনি বাধা কাটাতে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই নিজের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই নির্দেশ দিল।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশসমূহ:
নথি হস্তান্তর: রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কেস ডায়েরি-সহ মামলার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি অবিলম্বে এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে হবে।
সহযোগিতা: রাজ্য পুলিশ, মুখ্যসচিব এবং ডিজি-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তদন্তে এনআইএ এবং কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিকে পূর্ণ সহযোগিতা করার জন্য।
রিপোর্ট পেশ: তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময় অন্তর সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে এনআইএ-কে।
বিচার প্রক্রিয়া: এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলবে কলকাতার বিশেষ এনআইএ আদালতে।
ঠিক কী ঘটেছিল মোথাবাড়িতে? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের SIR (Specific Inquiry Report) প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন ব্যক্তিদের নথি যাচাই করতে মোথাবাড়ির বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন ৭ জন জুডিশিয়াল অফিসার। সেখানে বিক্ষোভকারীরা তাঁদের দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কার্যত 'পণবন্দি' করে রাখে। উদ্ধার করতে গেলে তাদের ওপর হামলাও চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে সেই ভয়াবহতা দেখে প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, এই হামলা আসলে খোদ বিচার ব্যবস্থার ওপর হামলা।
দেড় মাসে দু'বার ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ: বাংলার এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার জট কাটাতে গত দেড় মাসে সুপ্রিম কোর্ট দু'বার ১৪২ ধারা প্রয়োগ করল। প্রথমবার জুডিশিয়াল অফিসারদের নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব দিতে এবং দ্বিতীয়বার তাঁদের ওপর হওয়া হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে।
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপে মোথাবাড়িকাণ্ডের তদন্তে এবার নতুন মোড় আসতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

