বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাপ্লাই চেইনে নানা বাধার মেঘ কাটছে না। এরই মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতিতে এক বিশাল ও চাঞ্চল্যকর সাফল্যের খবর সামনে এল। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার বা জিডিপি গ্রোথ রেট এক লাফে পৌঁছে গিয়েছে ৭.৮ শতাংশে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের চোখ কপালে তুলে দেওয়া এই দুর্দান্ত সাফল্যের পর একে দেশের ১৪০ কোটি মানুষের 'সম্মিলিত শক্তি'র জাদুকরি প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মঙ্গলবার সকালে কিরগিজস্তান থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কড়া এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের এই আর্থিক অর্জনের জন্য আপ্লুত দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি ফের একবার 'স্বদেশি' এবং 'আত্মনির্ভরতা'র মন্ত্রে শান দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট কথা, দেশের সাধারণ মানুষ যত বেশি পরিমাণে স্থানীয় পণ্য ও পরিষেবা ব্যবহার করবেন, ভারতীয় অর্থনীতি ঠিক ততটাই দ্রুত গতিতে ইস্পাতকঠিন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কথা মাথায় রেখে দেশবাসীকে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী পরামর্শ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বা ট্যুরিজম এড়িয়ে চলার কড়া আর্জি জানিয়ে তিনি বলেছেন, শুধুমাত্র প্রমোদভ্রমণের উদ্দেশ্যে বিদেশে টাকা ওড়ানোর চেয়ে দেশীয় দর্শনীয় স্থান বা পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে বেছে নেওয়া অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে। দেশের মানুষ যদি নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশেই খরচ করেন, তবে সেই মূলধন দেশের ছোট-বড় ব্যবসা, পরিষেবা ক্ষেত্র এবং কর্মসংস্থানের চাকা সচল রাখবে।
সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চবিত্ত সমাজে ফ্যান্টাসি হয়ে ওঠা ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের ট্রেন্ড নিয়েও তীব্র বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে গিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করার পরিবর্তে দেশের মাটিতেই বৈদিক ও ঐতিহ্যবাহী উপায়ে বিয়ে সারার ডাক দিয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই সামনে এসেছে তাঁর অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্লোগান 'Wed in India'। অর্থাৎ, বিয়ের বিশাল বাজেট বিদেশে পাচার না করে দেশের ঐতিহাসিক কেল্লা, সমুদ্র সৈকত বা পাহাড়ি পর্যটন স্পটগুলিকে বেছে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
শুধু ভ্রমণ বা বিয়ে নয়, সোনা কেনার ক্ষেত্রেও কঠোর সংযম প্রদর্শনের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একান্ত প্রয়োজন না থাকলে অতিমাত্রায় সোনা আমদানি ও ক্রয়ে লাগাম টানার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, যার মূল উদ্দেশ্য হল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর থেকে অযথা চাপ কমানো। প্রসঙ্গত, গত মে মাসেও তিনি অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণ কমানোর মতো পদক্ষেপের কথা বলেছিলেন। একইসঙ্গে দেশীয় পন্থায় চলাফেরা, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা গণপরিবহণ ব্যবহার এবং জ্বালানি শক্তি সাশ্রয়ের উপরেও বিশেষ জোর দিয়েছিলেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মতো বিশাল জনবহুল দেশকে একটি অপ্রতিরোধ্য অর্থনৈতিক মহাশক্তিতে পরিণত করতে কেবল সরকারের নীতি বা সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়। এর জন্য দেশের ১৪০ কোটি নাগরিকের সক্রিয় ও সচেতন অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আত্মনির্ভরতার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে স্বাধীনতার একশো বছর পূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণে এ দেশের তরুণ প্রজন্মের হাতে একটি সম্পূর্ণ উন্নত ও স্বাবলম্বী ভারত তুলে দেওয়া সম্ভব। সঠিক নীতির সঠিক প্রয়োগ এবং জনগণের সম্মিলিত ঐক্যই ভারতকে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়।

