কেরল বিধানসভায় রাজ্যপালের নীতিগত ভাষণের সময় 'বন্দে মাতরম' সম্পূর্ণ না গাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর। শুক্রবার বিধানসভার অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল অভিযোগ করেন যে, সরকারি অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে বন্দে মাতরম সম্পূর্ণ গাওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল, কিন্তু বিধানসভায় তা কেবল বাজানো হয়েছে, যা দুর্ভাগ্যজনক।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশনে। রাজ্যপালের উপস্থিতি সত্ত্বেও বন্দে মাতরমের শুধুমাত্র প্রাথমিক শ্লোকগুলি বাজানো হয়। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই কেরলের রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। রাজ্যপাল জানান, তিনি ইতিমধ্যেই স্পিকার তিরুবনচুর রাধাকৃষ্ণনের সাথে কথা বলেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।
অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনাকে জাতীয় গানের প্রতি 'অবমাননা' হিসেবে অভিহিত করেছে। দলের প্রবীণ নেতা ও বিধায়ক ভি মুরলিধরন অভিযোগ তুলেছেন যে, জামাত-এ-ইসলামি এবং সিপিআই (এম)-এর চাপে পড়ে ইউডিএফ সরকার পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করেছে। বিজেপি নেতার মতে, এটি শুধু রাজ্যপাল বা বিধানসভার অপমান নয়, বরং ১৫০তম বর্ষপূর্তিতে জাতীয় গানের প্রতি চরম অবজ্ঞা। মুরলিধরন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সরকার সম্ভবত এই যুক্তিকেই মান্যতা দিচ্ছে যে জাতীয় গান ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী। আপাতত এই ইস্যুতে কেরলের রাজনৈতিক মহলে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।

