ছাব্বিশের বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায় শুধু একটি পরাজয় নয়, এটি একটি যুগের সমাপ্তি। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে হেক্সা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো সেলেকাওদের। আর এই হারের পরেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন ব্রাজিলের 'পোস্টার বয়' নেইমার জুনিয়র।
৩৪ বছর বয়সে দীর্ঘ ১৬ বছরের বর্ণময় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানলেন এই ফুটবল জাদুকর।
হৃদয়বিদারক বিদায়বেলা: নিউ জার্সির মাঠে এদিন ছিল শুধুই হাহাকার। আর্লিং হ্যালান্ডের জোড়া গোল ব্রাজিলীয় সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেয়। ৬৭ মিনিটে মাঠে নেমে স্টপেজ টাইমে একটি পেনাল্টি থেকে গোল করলেও, তা কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়া নেইমার আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, "আমি চেষ্টার পর চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। তবে সব শেষ। যেখানে শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।" চোট নিয়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আসা নেইমার পুরো টুর্নামেন্টে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, শেষরক্ষা হলো না।
এক নজরে নেইমারের ১৬ বছরের জার্নি: ২০১০ সালে শুরু হওয়া এই যাত্রায় নেইমার হয়ে উঠেছিলেন ব্রাজিলের আক্রমণের প্রাণভোমরা। ১২৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৮০টি গোল করে তিনি এখন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
সাফল্য: ২০১৩ সালে কনফেডারেশন কাপ জয় এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে দেশের হয়ে ঐতিহাসিক সোনা জয়।
অপূর্ণতা: হেক্সা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল। চোট-আঘাত বারবার তাঁর ক্যারিয়ারের গতিপথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবদান: রেনবো ফ্লিক, অসাধারণ ড্রিবলিং আর মাঠে তাঁর উপস্থিতি গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে অমূল্য সব মুহূর্ত।
কোচ আন্সেলোত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন: বিশ্বকাপে এই লজ্জাজনক বিদায়ের পর সেলেকাওদের কোচ কার্লো আন্সেলোত্তির ভবিষ্যৎও এখন বড় প্রশ্নের মুখে। তরুণ এই দলকে নকআউট পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে গেলেও, নরওয়ের কাছে পরাজয় তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
চোখের জলেই ইতি: ম্যাচ শেষে নেইমার যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন তাঁর চোখে জল। সতীর্থরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নেইমারের বিদায় মুহূর্তটি ছিল এক কথায় হৃদয়স্পর্শী। বিশেষজ্ঞরা একমত যে, চোট আঘাত না থাকলে নেইমার হয়তো ব্রাজিলীয় ফুটবলের ইতিহাসে আরও অনেক বড় মাইলফলক স্পর্শ করতে পারতেন। নীল-হলুদ জার্সিতে নেইমারের সেই পেনাল্টি শটটিই রয়ে গেল তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ গোল হিসেবে।

