Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ধুলো-বালি বা জলে নোট নষ্ট হওয়ার ভয়! রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বড় চমক, শীঘ্রই আসছে প্লাস্টিক নোট

ধুলো-বালি বা জলে নোট নষ্ট হওয়ার ভয়! রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বড় চমক, শীঘ্রই আসছে প্লাস্টিক নোট

tips24 2 weeks ago

দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে থাকা কাগজের নোট নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এবার শেষ হতে চলেছে। যথেচ্ছ ব্যবহারে ছিঁড়ে যাওয়া, জলে ভিজে নষ্ট হওয়া কিংবা ময়লা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান খুঁজতে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)। কাগজের পরিবর্তে এবার বাজারে আসতে পারে অত্যাধুনিক 'পলিমার নোট' বা প্লাস্টিকের নোট।

সূত্রের খবর, এই পরিবর্তনের ফলে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থা হবে আরও মজবুত এবং টেকসই।

কাগজের নোটের সীমাবদ্ধতা:
বর্তমানে আমরা যে নোটগুলো ব্যবহার করি, তা মূলত কটন বা তুলা থেকে তৈরি হয়। এই নোট তৈরির প্রক্রিয়ায় তুলা, জল ও বিভিন্ন রাসায়নিকের ব্যবহার যেমন ব্যয়সাপেক্ষ, তেমনি এর স্থায়িত্বকালও অত্যন্ত কম। বর্তমানে নোটের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর বা প্রোটেকটিভ লেয়ার দেওয়া হলেও, হাতের ঘাম, জল এবং বিভিন্ন কেমিক্যালের সংস্পর্শে এসে এই নোট খুব দ্রুত জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের ফলে নোটের কোণা ছিঁড়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে আরবিআই-কে বারবার নতুন নোট ছাপাতে হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি করছে।

পলিমার নোটের বিশেষত্ব:
অন্যদিকে, 'পলিমার নোট' তৈরি হয় সিন্থেটিক পলিমার দিয়ে, যা অবিশ্বাস্য রকমের টেকসই। এই নোট জল কিংবা ধুলোবালি দ্বারা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। এমনকি, এই নোট সহজে ছিঁড়ে ফেলাও প্রায় অসম্ভব। নিরাপত্তা বা জাল নোট প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও পলিমার নোট কাগজের নোটের থেকে কয়েক গুণ এগিয়ে। এই নোটে থাকে অত্যাধুনিক সি-থ্রু প্লাস্টিক ডিজাইন, মেটাল ফিল্ম যা বিভিন্ন কোণ থেকে বিভিন্ন রঙ পরিবর্তন করে এবং অতি-বেগুনি রশ্মিতে বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেখায়। গবেষণায় দেখা গেছে, কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট আড়াই গুণ বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়।

কেন এই পরিবর্তন জরুরি?
বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আরবিআই পাইলট প্রকল্প হিসেবে পলিমার ব্যাঙ্কনোট আনার প্রক্রিয়া বিবেচনা করছে। বিশেষ করে ৫০০ এবং ১০০ টাকার নোটের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলিমার নোটের মূল সুবিধাগুলো হলো:
১. স্থায়িত্ব: নোট সহজে ছিঁড়ে যায় না এবং জলে ভিজেও নষ্ট হয় না।
২. খরচ হ্রাস: দীর্ঘমেয়াদে এই নোট ব্যবহারের ফলে বারবার নতুন নোট ছাপানোর প্রয়োজনীয়তা কমবে, যা বিপুল পরিমাণ খরচ বাঁচাবে।
৩. নিরাপত্তা: পলিমার নোটের জাল সংস্করণ তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন, যা ভারতের অর্থনীতিকে জালিয়াতি থেকে রক্ষা করবে।

আরবিআই-এর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হতে চলেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ যেমন জরাজীর্ণ নোটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন, তেমনি দেশের অর্থনীতিও পাবে এক আধুনিক ও নিরাপদ মুদ্রা ব্যবস্থা।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tips 24