বিধাননগর সাইবার থানায় দায়ের হওয়া বিতর্কিত ডিজে মামলা নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তাপ তুঙ্গে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ নিয়ে চলমান আইনি জটিলতায় মঙ্গলবার বড়সড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কণ্ঠস্বরের নমুনা (Voice Sample) জমা দিতেই হবে।
আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন বিধাননগর আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কণ্ঠস্বরের নমুনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এই নির্দেশের বিরোধিতা করে অভিষেক কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। যদিও সেই সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠান। পরবর্তীতে বিধাননগর আদালত ডেডলাইন পিছিয়ে ৮ জুলাই ধার্য করে। সেই নির্দেশের প্রেক্ষাপটেই এদিন বিষয়টি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে উল্লেখ করেন অভিষেকের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, এই সংক্রান্ত মূল মামলাটি বর্তমানে তাঁর বেঞ্চেই বিচারাধীন রয়েছে।
আদালতে দুই পক্ষের যুক্তি:
মঙ্গলবার শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, যে ভিডিও ঘিরে এই অভিযোগ দায়ের হয়েছে, সেখানে থাকা কণ্ঠস্বর তাঁরই, তা তিনি আগেই স্বীকার করেছেন। আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন ছিল, যখন কণ্ঠস্বর স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, তখন নতুন করে নমুনা দিতে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কোথায়?
এর পাল্টা জবাব দেন রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। তিনি আদালতে জোরালো সওয়াল করে জানান, তদন্তকারী আধিকারিক যদি ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে কণ্ঠস্বরের সত্যতা যাচাই না করেন, তবে তিনি মামলার তদন্তে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন কী করে? আইন অনুযায়ী তদন্তের প্রতিটি পর্যায় যাচাই করা একান্ত আবশ্যক।
হাইকোর্টের অবস্থান:
উভয় পক্ষের সওয়াল-জওয়াব শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কোনো রকম জরুরি শুনানির আবেদন এদিন গ্রহণ করেননি। বরং তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "তদন্তে সহযোগিতা করুন, পরে সব পক্ষের আবেদনের শুনানি করা হবে।" বিচারপতির এই মন্তব্যের ফলে আইনি চাপে যে অভিষেক কিছুটা কোণঠাসা, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের একাংশ মনে করছে। আদালতের তরফে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যদিও অভিষেককে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, তবুও তদন্তের স্বার্থে পুলিশের তলব বা আইনি প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া এবং ডিজে মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।

