উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও পরিষেবা আরও দ্রুত করার লক্ষ্যে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার শিলিগুড়ির শাখা সচিবালয় 'উত্তরকন্যা'য় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, এখন থেকে উত্তরকন্যাকে সার্বক্ষণিক 'ওয়ার্কিং স্টেটাসে' থাকতে হবে।
এর ফলে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষকে আর কোনো কাজের জন্য আর দক্ষিণবঙ্গে ছুটে যেতে হবে না।
কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের কথা সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। বৈঠকের মূল সিদ্ধান্তগুলি হলো:
দৈনন্দিন পরিষেবা: ভূমি ও রাজস্ব, সেচ, বন, এবং বিপর্যয় মোকাবিলা-সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলি এখন থেকে প্রতিদিন উত্তরকন্যায় সক্রিয় থাকবে এবং সরাসরি সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনবে।
নতুন আঞ্চলিক অফিস: মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মানুষের সুবিধার্থে গাজলে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের একটি নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি রোধে প্রযুক্তি: সরকারি কাজে স্বচ্ছতা আনতে প্রতিটি স্কিমের ভিডিয়োগ্রাফি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ল্যান্ড বা বিএলআরও অফিসগুলিতে দুর্নীতি রুখতে অবিলম্বে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ট্রাফিক ও রেভিনিউ ইন্সপেক্টরদের 'বডি ক্যামেরা' পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা: উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের সমস্ত গাড়িতে স্পিডোমিটার বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে জুলাই থেকে অক্টোবর-এই চার মাস বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর, সেনা ও বিএসএফ-এর সাথে প্রতি মাসে যৌথ নজরদারি বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে বিধায়ক ও সাংসদদের আগের তুলনায় চারগুণ বেশি, অর্থাৎ প্রায় ২০০০টি করে উন্নতমানের ত্রিপল বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ওপর জোর: প্রধানমন্ত্রী 'সূর্য ঘর' যোজনায় উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ১ লক্ষ করে মোট ৮ লক্ষ উপভোক্তাকে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জেলাশাসকদের কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিক্ষা ক্ষেত্রে উদ্বেগ: উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও কন্ট্রোলার না থাকায় ছাত্রভর্তিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পর্যটন মন্ত্রী জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে এবং দ্রুত এই অচল অবস্থার নিরসন করা হবে।
পরিকল্পিত সফর: উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং প্রশাসনিক নজরদারি বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে প্রতি ১৫ দিনে অন্তত একবার তিনি নিজে উত্তরবঙ্গে আসবেন। এই সিদ্ধান্ত উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের কলকাতা-নির্ভরতা কাটাতে এক মাইলফলক হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

