Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
গণতন্ত্রে ভিন্ন মত কি ভয়ের? 'ককরোচ জনতা পার্টি' নিয়ে জল্পনার মাঝে বিস্ফোরক মন্তব্য সঙ্ঘের

গণতন্ত্রে ভিন্ন মত কি ভয়ের? 'ককরোচ জনতা পার্টি' নিয়ে জল্পনার মাঝে বিস্ফোরক মন্তব্য সঙ্ঘের

tips24 2 weeks ago

র্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে 'ককরোচ জনতা পার্টি' বা সিজেপি (Cockroach Janta Party)। মূলত 'জেন-জে' প্রজন্মের তৈরি এই স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনটি ইন্টারনেটে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, অনুগামীর সংখ্যায় এটি শাসকদল বিজেপিকেও বহু পেছনে ফেলে দিয়েছে।

এই অদ্ভুত অথচ শক্তিশালী ইন্টারনেট সেনসেশন নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সুনীল আম্বেকর।

চলমান এই বিতর্ক নিয়ে সঙ্ঘের অবস্থান স্পষ্ট করে আম্বেকর জানান, গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো মতের বৈচিত্র্য। তিনি বলেন, "গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ভিন্ন ভিন্ন মতামত বা জনসমক্ষে নানা বিষয়ে আলোচনা হওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তাই এই ধরণের অনলাইন সেনসেশনকে কোনোভাবেই ভীতি বা উদ্বেগের চোখে দেখা উচিত নয়।" আম্বেকরের মতে, ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এতটাই শক্তিশালী যে সেখানে যেকোনো কণ্ঠস্বর বা আবেগকে জায়গা দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।

আরএসএস মুখপাত্রের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গেরুয়া শিবিরের একাধিক নেতা ইতিমধ্যে এই সিজেপি-র উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকের অভিযোগ, এই পেজের নেপথ্যে পাকিস্তানের আর্থিক মদত বা গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এই বিষয়ে আম্বেকর বলেন, "আমাদের দেশ সচেতন। এখানে অবাধ নির্বাচন ব্যবস্থা, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মতো মুক্তমঞ্চ রয়েছে। তাই প্রতিটি আলোচনা বা ভিন্ন মতকে দেশের জন্য কোনো বড় ধাক্কা বা ভয়ের কারণ হিসেবে না দেখে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।"

উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেলটি ইতিমধ্যেই সরকারি নির্দেশে ভারতে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে দিল্লির উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। তবে এই কড়াকড়ির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ ও অখিলেশ যাদবের মতো বিরোধী নেতারা। পাশাপাশি বহু বলি তারকা ও কমেডিয়ানরাও এই ব্যঙ্গাত্মক পেজের সমর্থনে মুখ খুলেছেন।

এই পরিস্থিতিতে সঙ্ঘ নিজে কোনো হস্তক্ষেপ করবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে আম্বেকর সরাসরি জানান, আরএসএস-এর ময়দানে নামার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, "সোশ্যাল মিডিয়ার এই কথোপকথন যারা শুরু করেছে, তারা নিজেরাই তা সামলাতে সক্ষম। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এবং প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট শক্তিশালী। এই ধরণের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সংবিধানে নির্দিষ্ট পথ বাতলে দেওয়া আছে।"

সবশেষে নতুন প্রজন্মের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে সুনীল আম্বেকর বলেন, দেশের তরুণ শক্তির ওপর তাঁদের ভরসা রয়েছে। ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং যুবসমাজের এই চেতনা দেশের ভবিষ্যৎকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। আরএসএস-এর এই নমনীয় অবস্থান একদিকে যেমন জল্পনা কমাল, তেমনই আলোচনার নতুন মোড় তৈরি করল।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tips 24