দেবভূমি হরিদ্বারের পবিত্র সর্বানন্দ ঘাটে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভক্তি ও বিশ্বাসের শহর হিসেবে পরিচিত এই পুণ্যভূমিতে এক মহিলা পর্যটক তাঁর পোষা কুকুরকে গঙ্গার পবিত্র জলে স্নান করানোয় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্যুৎ গতিতে ভাইরাল হতেই নেটনাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এক মহিলা তাঁর পরিবারের সঙ্গে হরিদ্বারে তীর্থ ভ্রমণে এসেছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই তাঁর পোষা কুকুরটিকে নিয়ে সর্বানন্দ ঘাটে পৌঁছান এবং সরাসরি গঙ্গার জলে সেটিকে স্নান করাতে শুরু করেন। গঙ্গা হিন্দুদের কাছে কেবল একটি নদী নয়, বরং পরম শ্রদ্ধার দেবী স্বরূপ। ফলে ঘাটে উপস্থিত অন্যান্য ভক্ত ও তীর্থযাত্রীরা যখন এর প্রতিবাদ করেন, তখন পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে।
তীব্র বাদানুবাদ ও জনরোষ:
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গঙ্গার পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে দেখে ভক্তরা যখন মহিলাটিকে নিষেধ করেন, তখন তিনি শান্ত হওয়ার পরিবর্তে উল্টে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। উপস্থিত মানুষ এবং ওই মহিলার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে তীব্র কথা কাটাকাটি। উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়ে যায় যে স্থানীয়রা জমায়েত হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ওই মহিলার পরিবারের সদস্যরা অবশেষে হস্তক্ষেপ করেন। জনরোষের হাত থেকে বাঁচতে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পরিবারের লোকজনের কথা শুনে মহিলাটি তড়িঘড়ি কুকুরটিকে নিয়ে ঘাট ছেড়ে চলে যান।
পুরোহিতদের হুঁশিয়ারি:
এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তীর্থযাত্রী পুরোহিতরা। বিশিষ্ট পুরোহিত উজ্জ্বল পণ্ডিত কড়া ভাষায় জানান, "গঙ্গা লক্ষ লক্ষ মানুষের আস্থার প্রতীক। ঘাটের ওপর এই ধরনের কার্যকলাপ ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত করে। গঙ্গার মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসনের অবিলম্বে কঠোর হওয়া উচিত।" তিনি দাবি তুলেছেন যে, প্রতিটি ঘাটে নজরদারি বাড়ানো হোক এবং এমন আচরণের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ দাবি করেছেন যে, পবিত্র তীর্থস্থানে পোষ্য প্রাণীকে স্নান করানো বা যে কোনওভাবে নোংরা ছড়ানোর ওপর ভারী জরিমানা আরোপ করা হোক। এই ঘটনাটি গঙ্গার পবিত্রতা রক্ষা এবং পর্যটকদের আচরণের ওপর আরও একবার প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।

