ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি চুক্তির কালি শুকাতেই ফের অগ্নিগর্ভ হরমুজ প্রণালী। কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের রেভোলিউশন গার্ডস নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যাওয়ার সময় অন্তত দু'টি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
যদিও হামলায় জাহাজ দু'টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে আমেরিকার এক শীর্ষস্থানীয় আধিকারিক 'অ্যাক্সিওস'-কে নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের প্রতি সম্মান জানিয়ে ওয়াশিংটন ইরানকে এক সপ্তাহের জন্য সামরিক বিরতি দিয়েছিল। ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। চলতি বছরের শুরুতেই আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় আলি খামেনেই নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ওমান উপকূলের অদূরে ঘটে যাওয়া অন্য একটি ঘটনায়। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, মঙ্গলবার ভোরে একটি ট্যাঙ্কার প্রজেক্টাইলের আঘাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে। এই ঘটনার পেছনেও ইরানের হাত রয়েছে বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম এবং কৌশলগত জলপথ। বারবার বাণিজ্যিক জাহাজকে টার্গেট করার ফলে এই পথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি স্থাপনের জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তখন এই ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে ফের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে, প্রয়াত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষযাত্রায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে গোটা ইরানে। বাবার শেষকৃত্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে আসলেও, নেতার উত্তরাধিকারী ও বর্তমান শাসক আয়াতোল্লা মোজতবাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে খামেনেইয়ের অন্য তিন ছেলে-মুস্তাফা, মসাম এবং মাসুদ খামেনেইকে রবিবার তেহরানে আয়োজিত বিশেষ প্রার্থনাসভায় উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। একদিকে শোকের আবহে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিল সমীকরণ, আর অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানের এই আগ্রাসী নীতি-সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।

