তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার বলয়ে ঘেরা এই অভিযানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
তদন্তের প্রেক্ষাপট ও ইসিআইআর:
ইডি সূত্রে খবর, গতকাল সোমবার রাতে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই দলীয় তহবিল সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র এবং অনিয়মের প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হয়। বৈঠকের পরেই সংস্থাটি দ্রুততার সাথে এই বিষয়ে একটি ইসিআইআর (ECIR) দায়ের করে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই মঙ্গলবার ভোরে তদন্তকারীরা অভিযানে নামেন। মূলত রাজনৈতিক দলটির তহবিলে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস কী, কোন প্রক্রিয়ায় সেই টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখাই ইডির প্রধান লক্ষ্য।
তল্লাশি অভিযানের বিস্তারিত:
প্রাথমিক অনুসন্ধান চালানোর পর এদিন রাজ্যের পাঁচটি আলাদা ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডির আধিকারিকরা। এই অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোর বর্তমান সিগনেটরি বা স্বাক্ষরকারী কারা, তাদের ভূমিকা কী এবং এই তহবিলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সাথে কোনো আর্থিক তছরুপের যোগসূত্র রয়েছে কি না। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে তৃণমূলের তহবিল সংক্রান্ত যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে, তার সাথে এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোর সংযোগ খুঁজে বের করতেই এই তল্লাশি।
রাজনৈতিক প্রভাব:
সকাল থেকেই কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ইডির এই ঝটিকা অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে তৃণমূলের 'আর্থিক দুর্নীতির মুখোশ খুলে যাওয়া' হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই সক্রিয়তা যে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
ইডির এই অভিযানে কী কী নথি উদ্ধার হয়েছে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে ইডির গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, তল্লাশি শেষে পরবর্তী পর্যায়ের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এই মামলার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। আজকের এই অভিযান একদিকে যেমন তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে, তেমনই রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। পুরো বিষয়টি এখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় চলছে।

