সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আনন্দের দিন হলো শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী। প্রতি বছর ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই মহা উৎসব পালিত হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, রোহিণী নক্ষত্রের শুভক্ষণে এই পবিত্র দিনে মথুরার কারাগারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। এই বছর জন্মাষ্টমী উদযাপিত হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, যা একটি শুক্রবার।
বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হলো, প্রায় ১৫ বছর পর এই বছরের জন্মাষ্টমীতে অষ্টমী তিথি এবং রোহিণী নক্ষত্রের এক অপূর্ব ও দুর্লভ সংযোগ ঘটতে চলেছে। মথুরা ও বৃন্দাবন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি প্রান্তে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
এবারের জন্মাষ্টমীতে লাড্ডু গোপালের পুজো করার জন্য ভক্তরা খুব সীমিত এবং নির্দিষ্ট একটি সময় পাবেন। সঠিকভাবে পূজা সম্পন্ন করার জন্য মাত্র ৪৬ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পঞ্জিকা মতে, নিশিতা কালে অর্থাৎ পুজোর মূল লগ্ন শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা বেজে ৫৭ মিনিটে এবং তা চলবে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা বেজে ৪৩ মিনিট পর্যন্ত। এছাড়া অষ্টমী তিথির সূচনা হবে ৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে এবং এর সমাপ্তি ঘটবে ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে। অন্যদিকে, রোহিণী নক্ষত্র শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ২৯ মিনিটে এবং এর অন্তিম পর্ব শেষ হবে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ০৪ মিনিটে। উপবাস ভঙ্গের বা পারণের নির্দিষ্ট সময় ধরা হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ০১ মিনিটের পর এবং তার পরের দিন অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী দহি হান্ডি উৎসব।
জন্মাষ্টমীর পবিত্র আচার-অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। এই বিশেষ দিনে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরে ডান হাতে জল ও অক্ষত নিয়ে ব্রত বা উপবাসের সংকল্প করতে হবে। এরপর নিশিতা কালে বা মধ্যরাতে লাড্ডু গোপালকে প্রথমে পঞ্চামৃত এবং পরে পবিত্র গঙ্গা জল দিয়ে স্নান করাতে হবে। স্নান পর্ব শেষে প্রভুকে নতুন ও সুন্দর পোশাক পরিয়ে, কপালে চন্দনের তিলক এঁকে এবং বাঁশি, মুকুট ও ফুলের মালার সাহায্যে মনোমুগ্ধকরভাবে সাজিয়ে তুলতে হবে। এরপর বালগোপালকে একটি সুসজ্জিত দোলনায় বসিয়ে শঙ্খ ও ঘণ্টার ধ্বনির মাধ্যমে তাঁর জন্মোৎসব উদযাপন করতে হবে। নিবেদনের ক্ষেত্রে ভগবানকে মাখন-মিশ্রি, পঞ্জিরি, পায়েস, পঞ্চমেব ও নানা ধরনের ফল অর্পণ করতে হবে। একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, শ্রীকৃষ্ণের যেকোনো ভোগ বা নৈবেদ্যে তুলসী পাতা দেওয়া বাধ্যতামূলক, অন্যথায় সেই ভোগ গৃহীত হয় না। সবশেষে দেশি ঘি ও ধূপের প্রদীপ জ্বেলে শ্রীকৃষ্ণের আরতি সম্পন্ন করতে হবে। উপবাসের দিন অন্ন গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও ভক্তরা নিয়ম মেনে ফল, দুধ, দই এবং সৈন্ধব লবণ গ্রহণ করতে পারেন।

