Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
কলকাতা পুরনিগমে 'তোলাবাজি'র মহোৎসব, ৪৮ ঘণ্টায় জালে তিন তৃণমূল কাউন্সিলর!

কলকাতা পুরনিগমে 'তোলাবাজি'র মহোৎসব, ৪৮ ঘণ্টায় জালে তিন তৃণমূল কাউন্সিলর!

tips24 1 day ago

লকাতা পুরনিগমের অন্দরে তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে ক্রমশ বাড়ছে অস্বস্তি। একে একে ধরা পড়ছেন জনপ্রতিনিধিরা। সেই আবহেই বুধবার বড়বাজার থানার পুলিশ গ্রেফতার করল কলকাতা পুরনিগমের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহেশকুমার শর্মাকে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, হুমকি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এই গ্রেফতারির ফলে গত ৪৮ ঘণ্টায় মোট তিনজন তৃণমূল কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়লেন, যা শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বড়বাজার থানায় মহেশকুমার শর্মার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। ধৃত কাউন্সিলরের বাড়ি পোস্তা এলাকার কটন স্ট্রিটে। দীর্ঘ তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা মেলায় তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিনে কলকাতা পুরনিগমে তোলাবাজি বিরোধী অভিযানে নেমেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে গড়ফা থানার পুলিশ গ্রেফতার করে ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুরকে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রোমোটারদের কাছে কাটমানি দাবি এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। একই রাতে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ গ্রেফতার করে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সচিন সিংকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে পাকড়াও করা হয়েছে।

এই ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ মে থেকে, যখন ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুদীপ পোল্লে-কে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সুদীপের গ্রেফতারির পরেই শহরের অন্যান্য ওয়ার্ডে তোলাবাজি সংক্রান্ত পুরনো অভিযোগগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ।

তদন্তকারীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের পথেই তদন্ত চালানো হচ্ছে। অভিযোগের সারবত্তা প্রমাণ হলেই নেওয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা। পুলিশের অন্দরে খবর, আরও বেশ কিছু অভিযোগের নথি ও তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে এই 'তোলাবাজি'র তালিকায় নতুন কার নাম যুক্ত হয়, তা নিয়ে উত্তাল রাজনৈতিক মহল। কলকাতা পুরনিগমের অন্দরে চলা এই লাগাতার গ্রেফতারি এবং দুর্নীতিতে জনপ্রতিনিধিদের নাম জড়িয়ে পড়া শহরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তদন্তের জাল কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tips 24