রাজ্য কৃষি দপ্তরের কৃষক বন্ধু (নতুন) প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল সরকার। রাজ্যের কৃষি বিভাগ এবার সমস্ত বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের ভেরিফিকেশন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত আর্থিক সহায়তা যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের রেকর্ড এবার সরাসরি পিএম-কিষাণ ডেটাবেসের সঙ্গে মেলানো হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেমন সাধারণ সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে, তেমনই যেসব যোগ্য কৃষক এখনও পিএম-কিষাণ প্রকল্পের আওতায় আসেননি, তাঁদের শনাক্ত করে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।
কৃষক বন্ধু পোর্টালে ইতিমধ্যে পিএম-কিষাণ স্ট্যাটাস চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখার জন্য কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট ভেরিফিকেশন ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে। কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যথাযথভাবে পূরণ করা এই ফর্ম এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রাথমিক যাচাইকরণের সময় সংগ্রহ করা হবে। প্রতিটি ফর্ম জমা দেওয়ার পর একটি ইউনিক সিরিয়াল নম্বর দিয়ে প্রাপ্তিস্বীকার করা হবে, যাতে পরবর্তীতে আবেদনের বর্তমান অবস্থা ট্র্যাক করা সহজ হয়।
পুরো যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবেন ব্লক ও জেলা প্রশাসনের মনোনীত আধিকারিকরা। সহকারী কৃষি অধিকর্তা (ADA) এবং ব্লক-স্তরের অফিসাররা আবেদনগুলি খুঁটিয়ে দেখে তা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবেন।
ভেরিফিকেশন ফর্ম পূরণের খুঁটিনাটি:
ফর্মটি পূরণ করার সময় কৃষকদের ব্যক্তিগত, জমি এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-উপভোক্তার নাম, অভিভাবকের নাম, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আধার লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর, ভোটার কার্ড নম্বর, প্রধান পেশা এবং জমির সম্পূর্ণ বিবরণ। এছাড়া আবেদনকারী আয়কর প্রদান করেন কি না এবং স্বামী বা স্ত্রীর তথ্যের মতো বিষয়গুলিও উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য কৃষকদের নিম্নলিখিত নথিগুলি তৈরি রাখতে হবে:
১. আবেদনকারী ও তাঁর স্বামী বা স্ত্রীর আধার কার্ডের জেরক্স।
২. উপভোক্তা ও তাঁর স্বামী বা স্ত্রীর ভোটার কার্ডের (EPIC) কপি।
৩. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার ফটোকপি (যেখানে IFSC কোড ও অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান)।
৪. জমির খতিয়ান বা ROR-এর কপি।
৫. 'বাংলার ভূমি' পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত জমির সর্বশেষ দখল সংক্রান্ত নথি।
প্রয়োজনবোধে কৃষি দপ্তর কৃষক বন্ধু রেকর্ডের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে অতিরিক্ত নথিপত্র চাইতে পারে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিসে যোগাযোগ করে দ্রুত এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য, যাতে প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেতে কোনো সমস্যা না হয়।

