উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের অন্দরে চলা দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবার পৌঁছাল নবান্নের দরজায়। দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া, চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ, রক্ষণাবেক্ষণের কাজ এবং ক্যান্টিন পরিচালনার নামে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ তুলে সরাসরি স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন সংসদের একদল প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক কর্মী।
অভিযোগের মূলে কী রয়েছে? অভিযোগকারী তন্ময় মাশ্চটকের নেতৃত্বে প্রাক্তন কর্মীদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা সংসদে দুর্নীতির জাল বিস্তৃত ছিল। তাঁদের অভিযোগের প্রধান দিকগুলো হলো:
ক্যান্টিন দুর্নীতি: কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃত উপস্থিতির তুলনায় বহুগুণ বেশি খাবারের বিল দেখানো হয়েছে। কেবল ক্যান্টিন বাবদই প্রায় এক কোটি টাকার বিল তোলা হয়েছে, যার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
টেন্ডারে কারচুপি: রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের নামে নির্দিষ্ট কিছু সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় বড়সড় জালিয়াতি করা হয়েছে।
প্রভাবশালীর নাম: তৎকালীন সচিব ও প্রাক্তন মন্ত্রীর কন্যা প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের নাম এই দুর্নীতির অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও প্রিয়দর্শিনী মল্লিক সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ ছিলেন না। বরং তিনিও এই বিষয়ে রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ তদন্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে পার্থ কর্মকার শিক্ষা সংসদের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ই-টেন্ডার ব্যবস্থা চালু হয়। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই শিক্ষা সংসদের পুরনো নথিপত্র খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, আগের সরকারের মনোনীত একাধিক আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।
তন্ময় মাশ্চটকের কথায়, "আমাদের কাছে থাকা সমস্ত তথ্যপ্রমাণ মন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছি। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষীরা শাস্তি পাক।"
শিক্ষা সংসদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই তদন্ত কতটা গভীরে পৌঁছায় এবং ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে শিক্ষামহল।

