Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
মার্কিন মুলুকে বড় ধাক্কা! এইচ-১বি ভিসার 'গ্রেস পিরিয়ড' বাতিলের পথে ট্রাম্প? চরম বিপাকে হাজার হাজার ভারতীয়!

মার্কিন মুলুকে বড় ধাক্কা! এইচ-১বি ভিসার 'গ্রেস পিরিয়ড' বাতিলের পথে ট্রাম্প? চরম বিপাকে হাজার হাজার ভারতীয়!

tips24 1 week ago

মেরিকায় কর্মরত বিদেশি পেশাদারদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের খবর। এইচ-১বি ভিসাধারীরা চাকরি হারানোর পর যে ৬০ দিনের 'গ্রেস পিরিয়ড' বা সময়সীমা পেয়ে থাকেন, তা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার একটি কঠোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাবটি যদি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়, তবে আমেরিকার মাটিতে চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে নেওয়া বা ভিসার অন্য কোনো বৈধ ব্যবস্থায় যাওয়ার জন্য বিদেশি কর্মীদের হাতে আর আগের মতো পর্যাপ্ত সময় থাকবে না।

স্বাভাবিকভাবেই এই সম্ভাব্য নিয়মের ফলে আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় পেশাদারদের উপর অত্যন্ত মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

সাধারণত, এইচ-১বি ভিসায় থাকা কোনো বিদেশি কর্মীর চাকরি হঠাৎ শেষ হয়ে গেলে বিশেষ পরিস্থিতিতে তাঁকে আমেরিকায় থেকে নতুন চাকরি খোঁজা কিংবা নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পরিবর্তন করার জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত আইনি সময় দেওয়া হয়। এই সময়সীমা বহু কর্মীর কাছে অত্যন্ত জীবনদায়ী হিসেবে কাজ করে। চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই নতুন চাকরি খোঁজা, নতুন এইচ-১বি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু করা কিংবা অন্য কোনো বৈধ ভিসা ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হওয়ার মতো জটিল কাজগুলি এই সময়ের মধ্যেই করার সুযোগ থাকে। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) 'Eliminating the Discretionary 60-day Grace Period' শীর্ষক একটি নতুন প্রস্তাব তৈরি করেছে। গত আগস্ট মাসে হোয়াইট হাউসে এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে। যদিও প্রস্তাবটি এখনও সম্পূর্ণ কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে, তবুও এটি ফেডেরাল রেজিস্টারে প্রকাশিত হওয়ার পর জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে।

উল্লেখ্য, এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার ওপর ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি পেশাদারদের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। ফলে চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরি খোঁজার এই নির্ধারিত সময়সীমা যদি একেবারেই তুলে দেওয়া হয়, তবে ভারতীয় কর্মীদের একটি বিশাল অংশ সরাসরি চরম সংকটের মুখে পড়বেন। বর্তমান নিয়মের সুবিধা নিয়ে বহু কর্মী নতুন চাকরি জোগাড় করার সুযোগ পান। সেই সুবিধা কেড়ে নেওয়া হলে চাকরি হারানোর মুহূর্ত থেকেই তীব্র অভিবাসন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। শুধু কর্মীরাই নন, বরং এইচ-১বি ভিসাধারীদের ওপর নির্ভরশীল তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও এই পরিবর্তনের চরম মারের মুখে পড়বেন। বিশেষ করে এইচ-৪ স্ট্যাটাসে থাকা স্বামী বা স্ত্রী এবং ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মুহূর্তের মধ্যে এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। চাকরি চলে যাওয়ার পর নতুন চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত পরিবার কোথায় থাকবে এবং ভিসা স্ট্যাটাস কীভাবে বজায় থাকবে-এই প্রশ্নগুলি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেস পিরিয়ড তুলে দেওয়ার এই প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সামগ্রিক এইচ-১বি নীতিতে আরও একাধিক কড়া পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে নতুন এইচ-১বি আবেদনের জন্য ১ লক্ষ ডলারেরও বেশি ফি ধার্য করার চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব রয়েছে। নতুন ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে প্রায় ১,০৩,২৬৫ ডলার ফি নির্ধারণের কথা ভাবা হচ্ছে, যার ফলে আমেরিকায় দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা কোম্পানিগুলির জন্য অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদদের কাছে আমেরিকায় কেরিয়ার গড়ার মূল চাবিকাঠি হল এই এইচ-১বি ভিসা। কিন্তু নতুন এই কঠোর নিয়মগুলি একযোগে বাস্তবায়িত হলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি এবং নতুন চাকরি পাওয়ার পথ বহুলাংশে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tips 24