Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
মায়ের প্রেমিকের বাধা দেওয়াই কাল! ১৫ বছরের কিশোরকে খুনের পর কবরে পোঁতার ভয়ংকর ছক

মায়ের প্রেমিকের বাধা দেওয়াই কাল! ১৫ বছরের কিশোরকে খুনের পর কবরে পোঁতার ভয়ংকর ছক

tips24 4 days ago

মায়ের পরকীয়া সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোই যে কাল হবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলার আদোনির বাসিন্দা ১৫ বছরের কিশোর বীরেন্দ্র। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাকে প্রাণ দিতে হলো সেই মায়েরই হাতে, যার গর্ভে তার জন্ম। পরকীয়া সম্পর্ককে চিরস্থায়ী করতে প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজের সন্তানকেই খুনের অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করলেও, অবশেষে বিশেষ তদন্তকারী দলের জালে ধরা পড়ল এই পৈশাচিক ঘটনা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আদোনি মণ্ডলের জি হোসাল্লি গ্রামের বাসিন্দা বীরেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই তার মা গঙ্গাম্মার সঙ্গে দরগাপ্পা নামে এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। বাড়ির অন্দরের এই অশান্তি ক্রমশ বড় আকার ধারণ করে। শুধু পারিবারিক গণ্ডিতেই নয়, এই সম্পর্কের কথা পাড়া-প্রতিবেশীদের সামনেও তুলে ধরেছিল বীরেন্দ্র, যা মায়ের ও তার প্রেমিকের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সম্পর্ক ফাঁস হওয়ার ভয়ে এবং ছেলের ক্রমাগত বাধা সরিয়ে দিতেই মা ও তার প্রেমিক মিলে তাকে খুনের পরিকল্পনা করে।

খুনের পর দেহ লোপাটের জন্য অভিযুক্তরা বেছে নেয় গ্রামের বাইরের এক কবরস্থান। সেখানে গোপনে বীরেন্দ্রর দেহ পুঁতে দিয়ে তারা প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে। কিন্তু অপরাধের চিহ্ন পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে গঙ্গাম্মা নিজেই স্থানীয় থানায় পুত্রের নিখোঁজ ডায়েরি করে। এমনকী, তদন্তে দেরি হচ্ছে-এই অজুহাতে সে হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয়, যাতে ছেলেকে খুঁজে বের করার নির্দেশ পায় পুলিশ। নিজের সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অভিনয়ের এই চরম উৎকর্ষতায় পুলিশও শুরুতে কিছুটা ধন্দে পড়ে গিয়েছিল।

আদালতের নির্দেশে তদন্তের ভার দেওয়া হয় বিশেষ তদন্তকারী দলকে। তদন্ত চলাকালীন গঙ্গাম্মা ও তার প্রেমিক দরগাপ্পার বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই পুলিশ প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্য নেয়। ফোনের কল ডিটেইলস এবং স্থানীয় সাক্ষীদের বয়ান বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে, নিখোঁজের ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে খুনের ছক।

তদন্তকারী আধিকারিকদের নিখুঁত জেরার মুখে ভেঙে পড়ে অভিযুক্তরা। গত ১ জুন রাজস্ব আধিকারিক, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে কবরস্থানের নির্দিষ্ট জায়গা খুঁড়ে বীরেন্দ্রর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে এলাকার মানুষ স্তম্ভিত। ময়নাতদন্তের জন্য দেহাবশেষ পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে দরগাপ্পাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং গঙ্গাম্মাকেও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এক কিশোরের বাঁচার আকুতি কীভাবে মায়ের হাতের কবরে চাপা পড়ে গেল, তা নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা এলাকা।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tips 24