Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
মোবাইলের নেশা কাটাতে কাটোয়ায় দাবার লড়াই! নতুন প্রজন্মের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে শতাব্দী প্রাচীন খেলার ডাক

মোবাইলের নেশা কাটাতে কাটোয়ায় দাবার লড়াই! নতুন প্রজন্মের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে শতাব্দী প্রাচীন খেলার ডাক

tips24 4 months ago

প্রযুক্তির এই ক্রমবর্ধমান দাপটে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা মোবাইল ও ডিজিটাল মাধ্যমের প্রতি মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মোবাইলের এই অতি-নির্ভরশীলতা নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিন টাইমের আধিক্য শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতি, ধৈর্যের অভাব এবং সৃজনশীল চিন্তাশক্তির বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এই ডিজিটাল আসক্তির বেড়াজাল ছিঁড়ে শিশুদের মানসিক বিকাশ, একাগ্রতা বৃদ্ধি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে উৎসাহিত করতে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরে গ্রহণ করা হয়েছে এক বিশেষ উদ্যোগ। এই প্রথম কাটোয়া শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো একটি বিশেষ দাবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খেলা হিসেবে দাবার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা থাকলেও, কাটোয়া শহরে এতদিন দাবা চর্চার জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল না। সেই অভাব পূরণ করতেই 'পূর্ব বর্ধমান জেলা স্পোর্টস অ্যান্ড ফিজিক্যাল কালচার অ্যাসোসিয়েশন'-এর উদ্যোগে কাটোয়া শহরের সুবোধ স্মৃতি রোড এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এই আধুনিক দাবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি।

সংস্থার সদস্য অনির্বাণ দত্ত বলেন, "কাটোয়ার বুকে এটি প্রথম উদ্যোগ। আমরা বিশ্বাস করি, এই খেলার প্রসার ঘটলে শিশুরা মোবাইলের নেশা কাটিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের দিকে ঝুঁকবে।" আপাতত সপ্তাহে একদিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও, শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দেখে খুব শীঘ্রই সপ্তাহে দুদিন ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। প্রশিক্ষক সৌজাত্য দাস জানিয়েছেন, এমন সুযোগ তাঁদের সময়ে ছিল না, তাই বর্তমান প্রজন্মের জন্য এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই অনেকেই এখানে ভর্তি হয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, দাবা কেবল একটি খেলা নয়, বরং মস্তিষ্কের ব্যায়াম এবং ব্যক্তিত্ব গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। নিয়মিত দাবা অনুশীলনের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি বিকশিত হয়। যেমন-যুক্তি দিয়ে চিন্তা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তির উন্নতি, ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং গভীর একাগ্রতা। একজন খেলোয়াড়কে দাবার বোর্ডে প্রতিটি চাল দেওয়ার আগে প্রতিপক্ষের চাল নিয়ে ভাবতে হয়, যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে ধারালো করে।

ইতিমধ্যেই কাটোয়া শহরের অভিভাবক, শিক্ষাবিদ এবং ক্রীড়াপ্রেমীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই কেন্দ্রটি আগামী দিনে নতুন প্রতিভা অন্বেষণের পাশাপাশি শিশুদের মানসিক বিকাশে মাইলফলক হয়ে উঠবে। ভর্তি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য আগ্রহী অভিভাবকরা 7001421783 নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। ডিজিটাল পর্দার গণ্ডি ছেড়ে দাবার বোর্ডের এই নতুন যাত্রা কাটোয়ার শিশু-কিশোরদের এক নতুন দিগন্তের সন্ধান দেবে, এটাই প্রত্যাশা সবার।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tips 24