মুখের স্বাস্থ্যকে অনেকেই কেবল চকচকে দাঁত বা সুন্দর হাসির সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে এটি গোটা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার একটি আসল আয়না। মুখের ভেতরের সামান্য অবহেলা কিংবা অপরিচ্ছন্নতা কেবল দুর্গন্ধ বা দাঁতের ক্ষয়ের মতো সাধারণ সমস্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না, এর হাত ধরে হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো প্রাণঘাতী ও গুরুতর শারীরিক জটিলতাও শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।
আমাদের মুখমণ্ডলের ভেতরের অংশ শরীরের বাকি অর্গানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় জীবনযাত্রার সামান্য পরিবর্তনও এর ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস আমাদের মুখের দাঁতের অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে। চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপ বাড়লে অনেকেই অজান্তে দিনে বা ঘুমের মধ্যে দাঁতে দাঁত ঘষতে শুরু করেন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ব্রুকসিজম' (bruxism) বলা হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে চোয়ালে তীব্র ব্যথা, মাথাব্যথা এবং দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যায়। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি চোয়ালে ব্যথা অনুভূত হয়, তবে তা এই বদঅভ্যাসের স্পষ্ট লক্ষণ। পাশাপাশি, ব্যস্ত জীবনের চাপে দাঁত মাজা বা ফ্লস করার মতো নিত্যদিনের রুটিনে অবহেলা দেখা দেয় এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা প্লাক জমতে সাহায্য করে।
খাদ্যাভ্যাসের অনিয়মও দাঁত ও মাড়ির দফারফা করে দিচ্ছে। মিষ্টি খাবার ও পানীয় মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে। এই ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিড তৈরি করে যা দাঁতের শক্ত বাইরের স্তর বা এনামেলকে দুর্বল করে দেয়। এর পাশাপাশি শরীরে জলের অভাব বা ডিহাইড্রেশনের ফলে লালা উৎপাদন কমে যায়, যা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি করে। লালা মুখকে প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, তাই মুখ দীর্ঘদিন শুকনো থাকলে দাঁতের ক্ষয় ও দুর্গন্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। এছাড়া মুখ খুলে ঘুমানো বা নাক ডাকার অভ্যাসও মুখের ভেতরের আর্দ্রতা কেড়ে নেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের গুরুতর সমস্যাগুলি এক দিনে তৈরি হয় না, বরং মিষ্টি পানীয় খাওয়া, অপর্যাপ্ত জল পান করা এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের অভাবের মতো ছোট ছোট ভুলের ফল হলো এই রোগগুলি। মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, চোয়ালে ব্যথা বা দাঁতে শিরশিরানি ভাব দেখলে দেরি না করে অবিলম্বে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

