নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ভয়াবহ রেশ না কাটতেই ফের রক্তে ভাসল বারুইপুর। রবিবার নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার ফের এক কিশোরের নৃশংস খুনের ঘটনায় রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বারুইপুর পালপাড়া এলাকা। মৃতের নাম প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বচসার জেরে এই হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ উঠেছে, যা ঘিরে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ফুটবল খেলা ঘিরে বিবাদের পরিণতি:
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন দিন আগে স্থানীয় একটি ফুটবল প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছিল প্রসেনজিৎ। সেই জয়কে কেন্দ্র করেই স্থানীয় তিন যুবকের সঙ্গে তার বিবাদ দানা বাঁধে। অভিযোগ, রবিবার ওই তিন যুবক প্রসেনজিৎকে ডেকে নিয়ে যায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে নৃশংসভাবে খুন করে। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ক্যাম্প ভাঙচুর ও তীব্র বিক্ষোভ:
কিশোর খুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত জনতা বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়ে যায় যে, ক্ষিপ্ত জনতা পুলিশ ক্যাম্পও ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। মৃতের দাদা অভিযোগ করেছেন, "আমার ভাইকে যারা কুপিয়ে খুন করেছে, পুলিশ তাদের আমাদের সামনে আনছে না। আমরা এই ঘটনার কঠোর বিচার চাই।"
বারুইপুর জুড়ে অরাজকতা:
প্রসঙ্গত, রবিবারই বারুইপুরে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে এলাকায় প্রবল উত্তেজনা ছিল। শনিবার বিকেলে দোকান থেকে খাবার কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ওই কিশোরী। এরপর রবিবার সকালে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার পর সূর্যপুর স্টেশনে রেল অবরোধ করা হয়, যার জেরে শিয়ালদহ-নামখানা লাইনে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পাল্টা জনতা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। মৃতার পরিবারকে মঙ্গলবার ভবানীভবনে তলব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাই খবর।
একের পর এক হত্যাকাণ্ডে বারুইপুর যেন এখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। একদিকে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় জনরোষ, অন্যদিকে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোর খুনের ঘটনায় বারুইপুরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কিশোর খুনের ঘটনাটির তদন্তও দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে। দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিলেও, জনমানসে ক্ষোভের আঁচ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

