কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাসভবন ও সংলগ্ন এলাকায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর আধিকারিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি এবার নতুন মোড় নিল। আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে ইডি-র প্রতিনিধিরা যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, তাকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চলেছে দিল্লির সদর দফতর।
ইডি সূত্রে নিশ্চিত খবর, তদন্তকারী অফিসারদের ওপর হামলার ঘটনায় যে মামলা রুজু হয়েছে, তাতে নিজেদের পক্ষভুক্ত (Implead) করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এই ধরণের পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে রাজি নয় সংস্থাটি।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, কেরলের স্থানীয় পুলিশ বা রাজ্য সরকারের নিযুক্ত আইনজীবীদের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইডি-র মনে গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ, এই ধরণের স্পর্শকাতর ও রাজনৈতিক প্রভাবযুক্ত মামলাগুলো যে সমস্ত সরকারি আইনজীবীরা সামলাচ্ছেন, তাঁদের বড় অংশই বিগত বামপন্থী সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত। স্বাভাবিকভাবেই, তদন্তের গতিপ্রকৃতি যাতে প্রভাবিত না হয় এবং মামলাটি যাতে লজিক্যাল কনক্লুশনে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই ইডি নিজেরা এই আইনি লড়াইয়ে সরাসরি অংশ নিতে চলেছে।
তদন্তের গভীরে গিয়ে ইডি এখন হামলার নেপথ্যে থাকা বড়সড় চক্রান্ত খুঁজছে। রিপোর্টে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে হামলার ঘটনায় সিপিএম নেতাদের ভূমিকার ওপর। সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের সঙ্গে স্থানীয় বাম নেতাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং ঘটনার সময় তাঁদের উপস্থিতির বিষয়টি ইডি-র নজরে এসেছে। পুরো ঘটনাটি বিস্তারিত জানিয়ে দিল্লির সদর দফতরে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
মূল বিতর্কটি দানা বেঁধেছে 'সিএমআরএল-এক্সালজিক' আর্থিক লেনদেন মামলাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, পিনারাই বিজয়নের কন্যা বীণা টি-র সংস্থা 'এক্সালজিক' এবং সিএমআরএল-এর মধ্যে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত আটকাতে সিএমআরএল কর্তৃপক্ষ কেরল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, ইডি-র এই মামলার তদন্ত করার কোনো আইনি এক্তিয়ার নেই এবং এসএফআইও (SFIO) রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই விசாரணை চলতে পারে না।
তবে ইডি আদালতকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে, এই দুর্নীতির জাল অত্যন্ত বিস্তৃত, যার গভীরে পৌঁছাতে আরও বিশদ তদন্ত প্রয়োজন। আপাতত আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সিএমআরএল এবং তার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছে কেরল হাইকোর্ট। ওই দিনই মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতের শুক্রবারের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে পিনারাই-কন্যা বীণা এবং তাঁর সংস্থার ভবিষ্যৎ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলার প্রতিটি মোড় কেরলের শাসকদলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

