ক্যামাক স্ট্রিটকাণ্ডে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে। গত ২৭ অগস্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও পুরকর্মীদের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে এবার বড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা বেজে ২ মিনিটে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যসভার বিশিষ্ট তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন।
ইতিপূর্বে তাঁকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরার জন্য সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে দ্বিতীয়বার নোটিস পাঠানো হলে নির্ধারিত দিনে তিনি থানায় হাজিরা দেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে দুটিতে সরাসরি নাম রয়েছে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পাশাপাশি এফআইআর-এ নাম রয়েছে ডেরেক ও'ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং হুমায়ুন কবীরের। গত মঙ্গলবারই শেক্সপিয়র সরণি থানায় প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জেরা করা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। থানা থেকে বেরিয়ে বেরিয়ে আসার পর একে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে তোপ দাগেন তিনি। অন্যদিকে, আজকের এই ঘটনায় শুধু ডেরেক নন, দুপুর ১২টায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কেও তলব করা হয়েছে। এছাড়াও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে আগামী বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অগস্ট, যখন ৯ ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে থাকা একটি বিলবোর্ড সরাতে যায় কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার কর্মীরা। অভিযোগ, অফিসের ঢোকার মুখেই তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং অন্দরে শুরু হয় ধুন্ধুমার কাণ্ড। পুলিশ কর্মীদের মারধর, মহিলা পুলিশ কর্মীর শ্লীলতাহানি এবং পুরকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির গুরুতর অভিযোগ ওঠে। খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই সময় বচসায় জড়িয়ে পড়েন। এই বহুমুখী সংঘাতে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। একদিকে শাসক দলের দাবি এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অন্যদিকে বিরোধীরা কড়া আইনের প্রয়োগের দাবি তুলেছে। সবমিলিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের এই ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘিরে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

