রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় ফের ভোটের দামামা। রাজ্যের তিনটি রাজ্যসভা আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের তিন হেভিওয়েট সাংসদ-সুখেন্দুশেখর রায়, সুষ্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের ইস্তফার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এই উপনির্বাচন নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
গত ৪ মে-র পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে এই তিন শূন্যপদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি আসনের জন্য পৃথকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১-এর নিয়ম মেনে এবং দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উপনির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ:
মনোনয়ন দাখিল: ১৪ জুলাই, ২০২৬
মনোনয়ন যাচাই: ১৫ জুলাই, ২০২৬
প্রত্যাহার: ১৭ জুলাই, ২০২৬
ভোটগ্রহণ ও গণনা: ২৪ জুলাই, ২০২৬
দীর্ঘদিন পর মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আবার রাজ্যসভায় ভোট হওয়ায় জয়-পরাজয়ের সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিধানসভার বর্তমান গাণিতিক বিন্যাস অনুযায়ী, বিজেপি ২০৭টি আসনে রয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে রয়েছে ৮০টি আসন। কংগ্রেস ও অন্যান্য সহযোগী মিলিয়ে বিরোধীদের আসন সংখ্যা ৮৫। তবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচনে বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতাই প্রধান নির্ণায়ক। ফলে সংখ্যার বিচারে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই আসনগুলো ধরে রাখা আপাতদৃষ্টিতে সহজ হলেও, রাজ্য রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতা ও ভাঙাগড়ার খেলায় বিরোধী শিবির কোনো কৌশলগত চমক দেয় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় ওয়াকিবহাল মহল।
নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী, নির্বাচন প্রক্রিয়া ২৭ জুলাইয়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। রাজ্যসভার এই তিনটি আসন শাসকদলের কাছে যেমন তাদের আধিপত্য বজায় রাখার পরীক্ষা, তেমনই বিরোধী শিবিরের কাছে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের এক নতুন সুযোগ। এখন দেখার, তৃণমূলের ছেড়ে যাওয়া এই তিন আসনে কারা মনোনয়ন পান এবং বিরোধীরা কি কোনো বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে? সব মিলিয়ে রাজ্যসভার উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হতে চলেছে বাংলার রাজনৈতিক ক্যানভাস।

