তুরস্কের ইস্তানবুলের কাছে মারমারা সাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।বুধবার ভোরে ঘটা এই দুর্ঘটনায় একটি জাহাজের ১০ জন ক্রু সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত প্রায় তিনটে নাগাদ সিলিভরি জেলার উপকূলে 'আলসু' এবং 'তুগবের্ক ইমামোগলু' নামের দুটি তুর্কি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
ইস্তানবুলের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর রাসায়নিক ট্যাঙ্কার 'আলসু' জাহাজে প্রাথমিক ভাবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং সেটি সুরক্ষিত রয়েছে। তবে অপর জাহাজ 'তুগবের্ক ইমামোগলু'-র সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।ওই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজে ১০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন, যাদের বর্তমান পরিস্থিতি বা সঠিক অবস্থান এখনও সম্পূর্ণ অজানা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সংঘর্ষের পর জাহাজটি সাগরে ডুবে গেছে।
দুর্ঘটনার খবর ملতেই তৎপর হয়েছে প্রশাসন। নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে তুরস্কের কোস্ট গার্ডের একাধিক জাহাজ এবং উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ইস্তানবুল চেম্বার অব মেরিটাইম কমার্সের তথ্য অনুযায়ী, 'আলসু' নামের জাহাজটি এজিয়ান সাগরের আলিয়াগা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল এবং 'তুগবের্ক ইমামোগলু' কৃষ্ণসাগরের কারাদেনিজেরেগলি বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, মারমারা সাগর তুরস্কের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এটি বসফরাস ও দার্দানেলস প্রণালীর মাধ্যমে কৃষ্ণসাগরকে এজিয়ান ও ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই ব্যস্ত জলপথে এমন মারাত্মক দুর্ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষ ঘটল এবং এর ফলে পরিবেশগত কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।উদ্ধারকার্য সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই দুর্ঘটনার আসল কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

