দীর্ঘদিন ধরে শিয়ালদহ স্টেশনের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে ট্রেনের টিকিট কাটার যে চেনা ছবি, তা এবার বদলাতে চলেছে। টিকিট কাউন্টারের দীর্ঘ লাইন থেকে যাত্রীদের মুক্তি দিতে এবং ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে শিয়ালদহ বিভাগ তাদের 'রেলওয়ান মোবাইল' অ্যাপ সংক্রান্ত সচেতনতামূলক প্রচার অভিযানকে আরও জোরদার করেছে।
কিছুদিন আগেই রেলের পক্ষ থেকে কয়েকটি স্টেশনে টিকিট কাউন্টার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যার পরিবর্তে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টিকিট বুকিংয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক যাত্রী এই ডিজিটাল পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেগ পাচ্ছিলেন। এই সমস্যা দূর করতেই রেল কর্তৃপক্ষ সরাসরি মাঠে নেমেছে।
শিয়ালদহ বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে এখন বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মীরা উপস্থিত থাকছেন। তাঁরা যাত্রীদের হাতে-কলমে শেখাচ্ছেন কীভাবে 'রেলওয়ান মোবাইল' অ্যাপ ডাউনলোড করতে হয়, কীভাবে সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় এবং ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে দ্রুত টিকিট বুক করা যায়। রেলের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো যাত্রীদের সময় বাঁচানো এবং তাঁদের আরও সুবিধাজনক পরিষেবা প্রদান করা। এর আগে এই ধরনের সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছিল, যা তাঁদের এই প্রচারকে আরও বিস্তৃত করতে উৎসাহ জুগিয়েছে।
এই উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। শিয়ালদহ বিভাগে রেলওয়ান অ্যাপে নতুন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত হারে বাড়ছে এবং ডিজিটাল টিকিট বুকিংয়ে এক অভূতপূর্ব বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এটি প্রমাণ করে যে, যাত্রীরা ধীরে ধীরে অ্যাপ-ভিত্তিক টিকিটিং ব্যবস্থার প্রতি আরও বেশি আস্থাশীল হয়ে উঠছেন। এই প্রচেষ্টা কেবল 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া' মিশনের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করছে না, বরং টিকিট কাউন্টারের দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কমিয়ে কাগজের ব্যবহার হ্রাস করতেও ভূমিকা রাখছে। এছাড়া লক্ষ লক্ষ যাত্রী যারা প্রতিদিন শিয়ালদহ বিভাগের মাধ্যমে যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতিটি একটি সহজ, নিরাপদ ও স্পর্শবিহীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করছে।
শিয়ালদহ বিভাগ সকল যাত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছে যে, কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট না করে তারা যেন রেলওয়ান মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করেন। স্মার্ট, দ্রুত এবং সুবিধাজনক রেলভ্রমণের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিতে অ্যাপটি এখন প্রত্যেক যাত্রীর ফোনে থাকা প্রয়োজন। রেল কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, মানুষের অভ্যাস পরিবর্তনে এই সচেতনতামূলক প্রচার আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে এবং শিয়ালদহ স্টেশনের যাত্রী পরিষেবা ব্যবস্থাকে আধুনিকতার শিখরে নিয়ে যাবে।

