বাংলায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর রক্তপাতের সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম। বুধবার রাতে তৃণমূল স্তর থেকে উঠে আসা এবং বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা।
৯ মে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের ঠিক চার দিন আগে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। কাজ সেরে নিজের স্করপিও গাড়িতে চড়ে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া দিয়ে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ। অভিযোগ, নির্জন রাস্তায় ঘাতকরা তাঁর গাড়ি আটকে দেয় এবং গাড়ির কাঁচ বন্ধ থাকা অবস্থাতেই অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান চন্দ্রনাথ, গুরুতর আহত হন তাঁর চালকও। তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সেনাপতি। প্রাক্তন এই বায়ুসেনা কর্মী ২০১৯ সাল থেকে শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল, শুভেন্দু বড় কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে এলে চন্দ্রনাথ হওয়াই ছিলেন তাঁর প্রধান কাণ্ডারি। ঘটনার খবর পেয়েই রাতেই মধ্যমগ্রামে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও অগ্নিমিত্রা পাল। হাজির হন রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ উচ্চপদস্থ কর্তারা।
হাসপাতালের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়া ও ক্ষুব্ধ কর্মীদের মাঝে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি একে 'ঠান্ডা মাথার সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা' বলে অভিহিত করেছেন। ইতিমিধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের পেশাদার 'সুপারি কিলার' বলে মনে করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই খুনের নির্দেশে পর্দার আড়ালে থাকা 'মাস্টারমাইন্ড' আসলে কে? উত্তর খুঁজছে গোটা রাজ্য।

