Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
সিঙ্গুরে কি ফিরছে টাটা? নতুন শিল্পায়নের গেমপ্ল্যান সাজাচ্ছে বিজেপি, কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য?

সিঙ্গুরে কি ফিরছে টাটা? নতুন শিল্পায়নের গেমপ্ল্যান সাজাচ্ছে বিজেপি, কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য?

tips24 1 week ago

বাংলার শিল্প-মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায় রচনার বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দীর্ঘ সময় ধরে সিঙ্গুর নিয়ে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিতর্ক চলার পর, এবার নতুন সরকারের আমলে টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার জোরদার দাবি জানালেন তিনি। শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, "টাটাকে আমরা ফেরাবই।" ভোটের প্রচারেও এই একই প্রতিশ্রুতি শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে, এবার ক্ষমতায় আসার পর সেই লক্ষ্যেই পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন তৃণমূলের আন্দোলনের জেরে সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠীর ন্যানো প্রকল্প চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। প্রয়াত শিল্পপতি রতন টাটার সেই আক্ষেপ আজও বাংলার মানুষের স্মৃতিতে দগদগে। শমীক ভট্টাচার্যের মতে, শিল্প চলে যাওয়ার অর্থ কেবল একটি কোম্পানি চলে যাওয়া নয়, বরং হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ ও উন্নয়নের গতি থমকে যাওয়া। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় শিল্পায়নই শীর্ষে, আর সেই লক্ষ্যেই টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হবে।

ইতিমধ্যেই এই ঘোষণায় আশার আলো দেখছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ সুপর্ন মৈত্র বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ যে শিল্প-বিমুখ-এই নেতিবাচক বার্তা দীর্ঘকাল ধরে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে ছিল। সরকার যদি টাটাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়, তবে তা শুধু প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানই তৈরি করবে না, বরং রাজ্যে বিনিয়োগের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।"

এদিকে, বিজেপির অপর এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দাবি, রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, শুধু ভারত নয়, দুবাই, লন্ডন এবং সিঙ্গাপুরের মতো জায়গা থেকে বহু বড় শিল্পপতি সরাসরি যোগাযোগ করছেন। দিলীপ ঘোষের কথায়, "আগে দুর্নীতি ও অব্যবস্থার কারণে যাঁরা ব্যবসা করতে পারেননি, তাঁরা এখন ফিরতে আগ্রহী। অনেকে বাধ্য হয়ে ওড়িশায় ব্যবসা স্থানান্তর করেছিলেন, এখন তাঁরা ফের পশ্চিমবঙ্গে ফিরতে চাইছেন। আমি নিশ্চিত, আগামী এক বছরের মধ্যেই বাংলার শিল্প চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে।"

এখন সবটাই নির্ভর করছে নতুন সরকার কতটা কার্যকরভাবে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তার ওপর। সিঙ্গুরের সেই বিতর্কিত জমি এবং টাটা গোষ্ঠীর সেই পুরোনো স্মৃতি কি আদৌ বাস্তবতায় ফিরবে? নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রকাশ? রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেই দিকেই। তবে টাটার ফেরার সম্ভাবনা বাংলার বেকার যুবক-যুবতীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী দিনে রাজ্যে শিল্পায়নের এই লড়াই কতদূর সফল হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tips 24