আসন্ন পুরভোটের প্রাক্কালে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন চরম রূপ ধারণ করেছে। দলের প্রকৃত উত্তরসূরি ও ক্ষমতার উৎস কে, তা নিয়ে 'কালীঘাট তৃণমূল' এবং 'ঋতব্রত তৃণমূল'-এর দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবার সরাসরি প্রকাশ্য রাজপথে ও ছাত্র-যুব সংগঠনের স্তরে নেমে এসেছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দলীয় প্রতীক এবং তহবিল কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেই লড়াই এখন সোজা গিয়ে ঠেকেছে নির্বাচন কমিশনের কোর্টে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই তীব্র কোন্দল শাসক শিবিরের অন্দরে দীর্ঘমেয়াদী ভাঙনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংঘাতের এই নতুন অধ্যায়ে ময়দানে নেমে পড়েছেন দুই শিবিরের হেভিওয়েট যুবনেতা-নেত্রীরা। বুধবার বিধানসভায় কালীঘাট-তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে উপস্থিত হন তৃণমূল ছাত্র-যুব সংগঠনের পাঁচজন প্রভাবশালী নেতা-নেত্রী। নাম না করে তাঁরা বিরোধী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের ওপর চড়াও হন এবং তীব্র আক্রমণ শানান। এই প্রকাশ্য বিদ্রোহের জবাব দিতে সময় নষ্ট করেনি ঋতব্রত শিবিরও। ঋতব্রত-তৃণমূলের কট্টর মুখপাত্র ঋজু দত্ত পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে কালীঘাট শিবিরকে তীব্র নিশানা করেন। অন্যদিকে, কালীঘাট আইটি সেলের ইনচার্জ উপাসনা চৌধুরীও যুযুধান প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ।
দুই পক্ষের এই ঝাঁঝাল বাকযুদ্ধ এবং আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের আত্মঘাতী ঘরোয়া দ্বৈরথ বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। দলীয় প্রতীক এবং ফান্ডের দখল নিয়ে এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং শীর্ষ নেতৃত্ব এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ কীভাবে দমন করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র রাজনৈতিক মহল।

