তৃণমূল কংগ্রেসের আসল মালিকানা, দলীয় প্রতীক ও তহবিল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আজ, সোমবার ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে দুই শিবিরকেই তাদের লিখিত জবাব ও নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের সাংগঠনিক নির্বাচন ও অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী (Authorised Signatories) নিয়ে যে বিবাদ তৈরি হয়েছে, তার নিরসনে কমিশন এখন চূড়ান্ত পদক্ষেপের অপেক্ষায়।
কমিশনের দরবারে দুই পক্ষ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের হয়ে আইনি লড়াইয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন দলের প্রবীণ সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরও তাদের নিজস্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এর আগে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, দলের অধিকাংশ বিধায়ক তাদের সঙ্গেই রয়েছেন এবং কমিশন তাদের দীর্ঘ সময় ধরে শুনেছে। বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠীর দাবি, তারাই 'আসল তৃণমূল'।
পার্টি অফিস দখল ঘিরে নাটক: দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইতিমধ্যেই মরিয়া দুই শিবির। শুক্রবার বিকেলে ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন এলাকার তৃণমূল পার্টি অফিসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীদের হানা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সেখানে নতুন পোস্টার টাঙিয়ে তারা দাবি করেছে যে, এই অফিস ও জোড়াফুল প্রতীক তাদেরই। বৈঠকের পর পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ নেতাদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে।
এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে:
মমতা শিবির: দলের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের নিয়ে আইনি নথি জমা দিয়ে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
ঋতব্রত শিবির: বিধায়ক সংখ্যার গরিষ্ঠতা ও সংগঠনের দখল নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নিজেদের স্বপক্ষে যুক্তি সাজিয়েছে।
এখন নির্বাচন কমিশন কার হাতে দলের দায়িত্ব অর্পণ করে, সেটাই দেখার বিষয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির পরবর্তী সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

