Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
অভিষেকের পর এবার কল্যাণ! চণ্ডীতলায় তৃণমূল সাংসদের উপর হামলা,মাথায় গুরুতর চোট

অভিষেকের পর এবার কল্যাণ! চণ্ডীতলায় তৃণমূল সাংসদের উপর হামলা,মাথায় গুরুতর চোট

Truth Of Bengal 4 months ago

Truth of Bengal: রাজপথের পর এবার থানার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল ভোট-পরবর্তী জনরোষ ও রাজনৈতিক হিংসার আঁচ। শনিবার সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর, ঠিক তার পরদিনই অর্থাৎ রবিবার হুগলির চণ্ডীতলায় মারাত্মক হামলার মুখে পড়লেন শ্রীরামপুরের প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

চণ্ডীতলা থানার একেবারে ঢিলছোড়া দূরত্বে উন্মত্ত জনতার ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরের পর থেকে চণ্ডীতলা থানা চত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম ও জুতো হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই এদিন সরব হয়েছিল তৃণমূল। রবিবার চণ্ডীতলা থানায় একটি স্মারকলিপি বা ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কর্মসূচি ছিল দলের। সেইমতো সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল চণ্ডীতলা থানার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

কিন্তু থানার কাছাকাছি পৌঁছানোমাত্রই সেখানে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতার মুখোমুখি হন তাঁরা। পরিস্থিতি নিমেষেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল সাংসদকে লক্ষ্য করে প্রথমে কালো পতাকা দেখানো হয় এবং চারদিক থেকে তীব্র স্বরে 'চোর চোর' স্লোগান উঠতে শুরু করে। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দু'পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়।ধস্তাধস্তির মাঝেই আচমকা জনতাকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইট-পাটকেল ও ঢিল ছোড়া শুরু হয়। একটি বড় ঢিল সরাসরি এসে লাগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথায়। আঘাতের তীব্রতায় ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রাস্তার ওপরেই পড়ে যান শ্রীরামপুরের সাংসদ। তাঁর মাথা ফেটে রক্তপাত শুরু হলে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। দলীয় কর্মীরা দ্রুত বিক্ষুব্ধ জনতাকে প্রতিহত করে রক্তাক্ত সাংসদকে উদ্ধার করেন এবং সেখানেই তাঁর প্রাথমিক শুশ্রূষা ও মাথায় বরফ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সামান্য সুস্থ বোধ করার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, "বাংলায় আর গণতন্ত্র নেই। গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে বাংলা। আপনারা সবাই এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠুন, প্রতিবাদ করুন।"

এই গোটা ঘটনায় চণ্ডীতলা থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। আক্রান্তদের অভিযোগ, চোখের সামনে একজন সাংসদের ওপর এত বড় হামলা এবং ধস্তাধস্তি চললেও পুলিশ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল। এরই প্রতিবাদে মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধেই চণ্ডীতলা থানার গেটের সামনে অনুগামীদের নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে থানার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এলে তাঁদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন সাংসদ। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের দিকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি গর্জে ওঠেন, "কারা মারল আমাকে? কেন সামনে দাঁড়িয়েও ব্যবস্থা নিলেন না? আমি মারা গেলে কি আমার শরীরের ওপর দিয়ে গিয়ে আপনারা অ্যাকশন নেবেন?" পাল্টা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, সাংসদ বা দলের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেই পুলিশ দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Truth Of Bengal