Truth Of Bengal: মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। একটি চারচাকা গাড়ি কুয়োয় পড়ে গিয়ে একই পরিবারের ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৬ জন শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় শিউরে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা সকলকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা সকলেই নাসিক থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে দিন্দোরি থানার অন্তর্গত ইন্দোর গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি কোচিং সেন্টারের পক্ষ থেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তাঁরা। অনুষ্ঠান শেষে রাতে গাড়িতে চেপে বাড়ি ফেরার পথে দিন্দোরির শিবাজী নগর এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গাড়িটি।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ। পুলিশ জানিয়েছে, অন্ধকারের কারণে রাস্তার ধারে থাকা কুয়োটিকে শনাক্ত করতে পারেননি চালক। ফলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি সোজা কুয়োর মধ্যে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দিন্দোরি থানার পুলিশ এবং এনডিআরএফ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত বাড়ান। গাড়িটি উদ্ধারে নামানো হয় দুটি ক্রেন এবং স্থানীয় সাঁতারুদের সাহায্যও নেওয়া হয়।
- দিক্ষিতের দেহ মুম্বই ফিরলেও পরিবার মৃত্যু নিয়ে নিশ্চিত নয়
- "বাংলায় হিংসাই এখন সংস্কৃতি!" বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে মমতাকে কড়া আক্রমণ মোদির
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধার করতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। তাঁদের দাবি, আরও দ্রুত উদ্ধার করা গেলে হয়তো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারত। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুনীল দাত্তু দরগুড়ে (৩২), রেশমা সুনীল দরগুড়ে (২৭), আশা অনিল দরগুড়ে (৩২), খুশি (১৪), মাধুরী (১৩), শ্রেয়াস (১১), শ্রাবণী (১১), সমৃদ্ধি (৭) এবং রাখী। দুর্ঘটনার পরে সকলকে উদ্ধার করে দিন্দোরি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে হাইড্রা ক্রেন এনে কুয়োর জল থেকে গাড়িটি টেনে তোলা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গাড়ির গতি অত্যন্ত বেশি থাকার কারণেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পাশাপাশি কুয়োর চারপাশে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা আরও ভয়াবহ আকার নেয় বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

