Truth of Bengal: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর উইকেটকিপার ব্যাটার জিতেশ শর্মার একটি মন্তব্য ঘিরে সম্প্রতি ক্রিকেট মহলে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। রাজস্থান রয়্যালসের তরুণ ওপেনার বৈভব সূর্যবংশীকে তিনি 'অপেশাদার' বলে উল্লেখ করেন, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
কারণ হিসাবে উঠে আসে, মাত্র ১৫ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার সাধারণ কিশোরদের মতোই কার্টুন দেখা, আইসক্রিম খাওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে জীবন উপভোগ করে। পরে অবশ্য জিতেশ নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করেন এবং জানান, এটি কোনও নেতিবাচক মন্তব্য নয়, বরং তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেরই প্রতিফলন।
একটি পডকাস্টে জিতেশ শর্মা বলেন, বৈভব তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন এবং তাঁদের সম্পর্ক এতটাই ভাল যে তিনি যেকোনওভাবে তাকে সম্বোধন করতে পারেন। এর আগে প্রাক্তন কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্সের ইউটিউব আলোচনায় এই মন্তব্য করেন তিনি, যা থেকেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত।
- কেওড়াতলায় হবে টুটু বোসের শেষকৃত্য, মোহনবাগান তাঁবুতে শ্রদ্ধা জানাবেন অনুরাগীরা
- নক্ষত্র পতন! প্রয়াত মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বসু
জিতেশ জানান, আলোচনার সময় ডি ভিলিয়ার্স তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, কোন তরুণ ক্রিকেটার ভবিষ্যতে ভারতের বড় তারকা হতে পারেন। তখনই তিনি বৈভব সূর্যবংশীর নাম নেন। তাঁর মতে, ব্যাটিং টেকনিক, মানসিক দৃঢ়তা এবং পরিশ্রম- সব দিক থেকেই বৈভবের মধ্যে অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। তিন ফরম্যাটেই আধিপত্য বিস্তার করার ক্ষমতাও তার রয়েছে বলে মত দেন জিতেশ।
তবে মাঠের বাইরের বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানান, বৈভব এখনও একজন কিশোর। সে আইসক্রিম খেতে ভালোবাসে, তাঁর ঘরে এসে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটায়, এমনকি পরিবারের সঙ্গেও সহজভাবে মিশে যায়। জিতেশের মতে, এই বয়সে একজন শিশুর স্বাভাবিক জীবন উপভোগ করাই উচিত।
সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হওয়া বিতর্ককে গুরুত্ব না দেওয়ার কথাও জানান জিতেশ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এত অল্প বয়সে একজন খেলোয়াড়ের ওপর অতিরিক্ত পরিপক্বতার চাপ দেওয়া ঠিক নয়। তিনি মনে করেন, বৈভবের এখন মূল কাজ হল নিজের ব্যাটিং উপভোগ করা, মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকা এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা।
জিতেশের মতে, মাঠে যতই পেশাদারিত্ব প্রয়োজন হোক না কেন, মাঠের বাইরে একজন ১৫ বছরের কিশোরকে তার বয়স অনুযায়ীই বাঁচতে দেওয়া উচিত। তিনি চান, বৈভব যেন নিজের স্বাভাবিক জীবন উপভোগ করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যায় এবং ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে নিজের প্রতিভা মেলে ধরে।

