Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ভারতের নবীনতম দাবা গ্র্যান্ডমাস্টার আরণ্যক ঘোষকে সম্বর্ধনা

ভারতের নবীনতম দাবা গ্র্যান্ডমাস্টার আরণ্যক ঘোষকে সম্বর্ধনা

Truth Of Bengal 0 months ago

Truth of Bengal: রাহুল চট্টোপাধ্যায়: কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসে পূর্ব রেলওয়ের সদর দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মব্যস্ততার মাঝে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। পূর্ব রেলওয়ে জানিয়েছে যে, পূর্ব রেলওয়ের কর্মচারী আরণ্যক ঘোষ আনুষ্ঠানিকভাবে দাবা জগতের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছেন এবং মর্যাদাপূর্ণ 'গ্র্যান্ডমাস্টার' খেতাব অর্জন করেছেন।

এই স্মরণীয় অর্জনের মাধ্যমে আরণ্যক ভারতের ৯৫তম এবং পশ্চিমবঙ্গের ১২তম গ্র্যান্ডমাস্টার হিসেবে এক অভিজাত তালিকায় প্রবেশ করলেন, যা ক্রীড়া ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম চিরস্থায়ীভাবে খোদাই করে দিল।

 চিত্রঃ নিজস্ব

এই মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর যাত্রা ছিল অধ্যবসায় এবং রণকৌশলের এক অনন্য নিদর্শন। ২০২৫ সালে গোয়ায় অনুষ্ঠিত ফিডে ওয়ার্ল্ড কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে জব্বলপুরে অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে ইন্ডিভিজুয়াল চেস চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ পর্যন্ত-আরণ্যক বারবার দেখিয়েছেন যে প্রকৃত প্রতিভার কোনো সীমানা নেই। তাঁর এই উত্থান আরও উজ্জ্বল হয়েছে ৬০তম ন্যাশনাল সিনিয়র চেস চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জয় এবং ২৫৫৫-এর মতো শক্তিশালী ফিডে রেটিং অর্জনের মাধ্যমে। বর্তমানে ভারতে ৩১তম এবং বিশ্বজুড়ে ৪০১তম স্থানে থাকা আরণ্যক একজন একনিষ্ঠ কর্মচারী থেকে শ্রেষ্ঠত্বের এক বিশ্বজনীন প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।এই গৌরবময় মুহূর্তে পূর্ব রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কর, আরণ্যক ঘোষকে তাঁর অসামান্য সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান এবং তাঁর অদম্য সংকল্পের প্রশংসা করে বলেন যে, এই ধরনের সাফল্য পূর্ব রেলওয়ের জন্য অপরিসীম গর্ব বয়ে আনে এবং অন্যদের নিজেদের লক্ষ্য পূরণে একাগ্রতার সাথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। এই আবেগঘন মুহূর্তে আনন্দ ভাগ করে নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি উল্লেখ করেন যে, আরণ্যকের এই সাফল্য নিরলস পরিশ্রম এবং নীরব সাধনার ফল, যা রেলওয়ে পরিবারের জন্য এক অনন্য সম্মান বয়ে এনেছে।

পূর্ব রেলওয়ে আরণ্যক ঘোষকে কুর্নিশ জানিয়ে বলেছে,তিনি সেই কর্মচারী যিনি রাজার মতো ভেবেছেন এবং কিংবদন্তির মতো খেলেছেন। বিশ্বমঞ্চে ভারতের তেরঙা পতাকা ও রেলওয়ের প্রতীককে গৌরবান্বিত করার এই যাত্রায় তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করা হয়েছে রেলের পক্ষ থেকে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে সঠিক দূরদৃষ্টি থাকলে ৬৪টি ঘরের মধ্যেই যেকোনো স্বপ্নকে জয় করা সম্ভব।অপর এক অনুষ্ঠানে সারা বাংলা দাবা সংস্থা-র উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের দ্বাদশ গ্র্যান্ডমাস্টার আরণ্যক ঘোষ-কে সংবর্ধনা জানানো হল কলকাতা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাবে।ওই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তী হকি অলিম্পিয়ান গুরবক্স সিং ও বাংলার প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার দিব্যেন্দু বড়ুয়া। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়, যেখানে বাংলার দুই প্রজন্মের ক্রীড়া আইকনদের এক মঞ্চে দেখা গেল।১৯৯১ সালে গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব অর্জন করে ইতিহাস গড়েছিলেন দিব্যেন্দু বড়ুয়া। সেই ধারাবাহিকতায় অরণ্যক ঘোষের এই সাফল্য বাংলার দাবার অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করল।অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, আরণ্যকের এই অর্জন আগামী প্রজন্মের দাবাড়ুদের অনুপ্রাণিত করবে এবং বাংলাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দাবা মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।
বাংলার দাবা জগতে আরো এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হল।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Truth Of Bengal