Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা, বেহাল স্বাস্থ্য পরিকাঠামো জম্মু-কাশ্মীরে অন্তঃসত্ত্বার গর্ভেই মৃত্যু শিশুর

দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা, বেহাল স্বাস্থ্য পরিকাঠামো জম্মু-কাশ্মীরে অন্তঃসত্ত্বার গর্ভেই মৃত্যু শিশুর

Truth Of Bengal 4 months ago

Truth of Bengal: জম্মু-কাশ্মীরের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল কিশ্তওয়ার জেলার মারওয়া উপত্যকায় স্বাস্থ্যপরিকাঠামোর করুণ চিত্র ফের সামনে এল। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে দেহর্না গ্রামের বাসিন্দা শায়েস্তা বেগমের ক্ষেত্রে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে প্রসবযন্ত্রণা শুরু হয় শায়েস্তার। কিন্তু গ্রামে নেই উপযুক্ত রাস্তা, নেই অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে কাঁধে করে কয়েক কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে মূল সড়কে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করে তাঁকে নওয়াপাচির প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে পরিবার জানতে পারে সেখানে কোনও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ উপস্থিত নেই। জরুরি চিকিৎসা না পেয়ে সময় নষ্ট না করে শায়েস্তাকে দ্রুত অনন্তনাগ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা মাকে বাঁচাতে সক্ষম হলেও সন্তানকে আর রক্ষা করা যায়নি।

শায়েস্তার স্বামী নাসির হুসেন লোনের অভিযোগ, 'আমাদের এলাকায় প্রতিটি গর্ভাবস্থাই যেন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে ঠিকই, কিন্তু অধিকাংশ সময় কোনও চিকিৎসক থাকেন না। প্রসবযন্ত্রণা শুরু হলে স্ত্রীদের কাঁধে করে পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। তারপর শুধু প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।' মারওয়া উপত্যকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বাস। স্থানীয়দের দাবি, গোটা এলাকার ভরসা একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র হলেও সেখানে নিয়মিত চিকিৎসক থাকেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য গর্ভবতী মহিলাদের অনন্তনাগ বা কিশ্তওয়ার শহরে পাঠানো হয়, যা ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই যাত্রা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি শীতকালে আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয়দের মতে, ভারী তুষারপাতের কারণে মারগান গিরিপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে। ফলে উপত্যকাটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা মারওয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থায়ী স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার দাবি তুলেছেন। দেহর্না গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দার প্রশ্ন, 'আর কত মাকে কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে? আর কত নবজাতকের মৃত্যু হলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?' এই ঘটনা ফের একবার দেশের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনে দিয়েছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Truth Of Bengal