Truth of Bengal: ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে আপাতত সংঘর্ষবিরতি চললেও পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা এখনও অনিশ্চিত। এই আবহেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত। সূত্রের খবর, ইরান থেকে সরাসরি অপরিশোধিত তেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশের অন্যতম বেসরকারি সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।
প্রয়োজনে গুজরাটের সিক্কা বন্দরে ইরান থেকে তেল আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আইনি জটিলতা এবং অর্থ লেনদেন কোন মুদ্রায় হবে- এই সমস্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনও বাধা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সবুজ সংকেত মিললে নিয়মিত ভিত্তিতেই ইরান থেকে তেল আমদানির পথ খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, রিলায়েন্সের আবেদনের ভিত্তিতে ভারতের শিপিং মন্ত্রক চারটি তেলবাহী জাহাজকে বিশেষ অনুমতি দিয়েছে। শিল্প সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই একবারের জন্য এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। অনুমতি পাওয়া জাহাজগুলির মধ্যে রয়েছে- কমোরোস পতাকাবাহী আফ্রাম্যাক্স 'কাভিজ', কুরাকাও পতাকাবাহী ভিএলসিসি 'লেনোর' এবং ইরান পতাকাবাহী ভিএলসিসি 'ফেলিসিটি' ও 'হেডি'। জানা গিয়েছে, চারটি জাহাজই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এবং প্রতিটি জাহাজের বয়স ২০ বছরের বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই তেল আমদানি বাস্তবে হয়, তবে তা হবে ২০১৯ সালের মে মাসের পর প্রথমবার, যখন ভারত ইরান থেকে সরাসরি তেল পেতে চলেছে।
- মহারাষ্ট্রে বড় নিয়ম! মারাঠি ভাষা না জানলেই বাতিল হবে অটো-রিকশার লাইসেন্স
- দু'দশকের রাজপাটে ইতি! রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন নীতীশ
উল্লেখ্য, মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞার জেরে ২০১৯ সাল থেকেই ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল ভারত। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্প্রতি আমেরিকা সাময়িকভাবে সমুদ্রে ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞায় কিছুটা ছাড় দিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। যদিও সেই ছাড়ের মেয়াদ ১৯ এপ্রিল শেষ হতে চলেছে। যদিও অনুমতি মিলেছে, তবুও রিলায়েন্স শেষ পর্যন্ত ইরানি তেল পরিশোধন করবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ সংস্থা চাইছে, পুরো লেনদেন যেন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মেনে এবং ভারতীয় আইনের সীমার মধ্যে থেকেই সম্পন্ন হয়।
অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতকে আগের মতোই তেল ও গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে কাতার। দোহায় কাতারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির আবহে তেল সরবরাহের নিরাপত্তা ও জ্বালানি আমদানির বিকল্প পথ খুঁজতে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্তরে সক্রিয় হয়েছে ভারত। ইরান থেকে সরাসরি তেল আমদানি শুরু হলে তা কেবল অর্থনৈতিক নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় বার্তা দেবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

