Truth Of Bengal: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ড সিবিএসই-র নতুন পাঠ্যক্রম কাঠামো নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। শনিবার তিনি এই কাঠামোকে 'নিরীহ শিক্ষাগত সংস্কার' নয়, বরং একটি 'পরিকল্পিত ও উদ্বেগজনক ভাষাগত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা' বলে উল্লেখ করেন।
তাঁর অভিযোগ, 'ভারতীয় ভাষা প্রচার'-এর নামে কেন্দ্রীয় সরকার আসলে হিন্দিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের ভাষাগত বৈচিত্র্যকে প্রান্তিক করে তুলতে চাইছে। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে স্ট্যালিন বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার কেন্দ্রীয়করণের একটি এজেন্ডা বাস্তবায়িত করছে, যার মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলিতে হিন্দি সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, কথিত 'ত্রি-ভাষা নীতি' আসলে দক্ষিণ ভারতের পড়ুয়াদের জন্য বাধ্যতামূলক হিন্দি শিক্ষার পথ খুলে দিচ্ছে। স্ট্যালিন প্রশ্ন তোলেন, দক্ষিণ ভারতের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এই কাঠামো কার্যত বাধ্যতামূলক হিন্দি শেখার সমান। কিন্তু পাল্টা সমতা কোথায়? হিন্দিভাষী রাজ্যগুলিতে কি ছাত্রছাত্রীদের তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম বা বাংলা-মরাঠির মতো ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হবে? তাঁর বক্তব্য, এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় নীতিটির একতরফা এবং বৈষম্যমূলক চরিত্র প্রকাশ্যে এসেছে।
উল্লেখ্য, সিবিএসই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে ত্রি-ভাষা নীতি কার্যকর করা হবে। এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষা শিখতে হবে, যার মধ্যে অন্তত দুটি ভারতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক থাকবে। কেন্দ্রের দাবি, এটি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। তবে স্ট্যালিনের অভিযোগ, এই নীতি আসলে ভাষার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় আগ্রাসন এবং অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি আরও বলেন, যে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলিতে তামিল ভাষাকে বাধ্যতামূলক করতে পারেনি, এমনকি পর্যাপ্ত তামিল শিক্ষকও নিয়োগ করতে ব্যর্থ, তারাই এখন রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ভাষা প্রচারের নীতিকথা শোনাচ্ছে। এটি নিছক ভণ্ডামি।
- "বাংলায় হিংসাই এখন সংস্কৃতি!" বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে মমতাকে কড়া আক্রমণ মোদির
- 'রাজপরিবারের শততম পরাজয় আসন্ন', অসমে হ্যাটট্রিকের দাবি নরেন্দ্র মোদির
শুধু ভাষা নয়, নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষকসংখ্যা, প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। স্ট্যালিন বলেন, এই বিশাল পরিবর্তন বাস্তবায়িত করতে যোগ্য শিক্ষক কোথায়? প্রশিক্ষণের সক্ষমতা কতটা? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-এই অতিরিক্ত বোঝা সামলাতে অর্থ বরাদ্দ কোথায়? স্ট্যালিন দাবি করেন, তামিলনাড়ু এবং অন্যান্য রাজ্যের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আপত্তিকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় সরকার হিন্দি চাপিয়ে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর মতে, এই অবস্থান সমবায়ী যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে এবং কোটি কোটি মানুষের ভাষাগত পরিচয়ের প্রতি অবমাননাকর।

