Truth Of Bengal: আসন্ন অর্ধ কুম্ভ মেলাকে কেন্দ্র করে বড় সিদ্ধান্ত নিল হরিদ্বার পুরসভা। ধর্মীয় শহর হরিদ্বারকে মাংসের দোকানমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরসভার ঘোষণা অনুযায়ী, শহরের মধ্যে থাকা সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও অবৈধ মাংসের দোকান সরিয়ে নিকটবর্তী সরাই গ্রামে স্থানান্তর করা হবে।
পুরসভার বোর্ড সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এই প্রস্তাব পাশ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হরিদ্বারের মেয়র কিরণ জয়সওয়াল জানিয়েছেন, শহরের মধ্যে বর্তমানে যত মাংসের দোকান চলছে, সব দোকানই সরাই ভিলেজ কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত করা হবে। এই উদ্দেশ্যে পুরসভার পক্ষ থেকে সরাই গ্রামে ইতিমধ্যেই ৫৭টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। মেয়রের দাবি, দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত হরিদ্বারে আসেন। তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুর কমিশনার নন্দন কুমার জানিয়েছেন, ১৯৩৫ সালের পুরনো পুর উপবিধি অনুযায়ী হর কি পাউড়ির ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মাংস, মদ ও ডিম বিক্রি ও সেবন নিষিদ্ধ। এবার সেই বিধিনিষেধ আরও কড়া করে পুরো শহরাঞ্চলে কার্যকর করার জন্য উপবিধি সংশোধনের প্রস্তাবও বোর্ড সভায় পাশ হয়েছে। সংশোধিত বিধি অনুযায়ী শহরের ভিতরে কাঁচা মাংস বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে তা শহরের বাইরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মেয়র কিরণ জয়সওয়াল এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর দাবি, ধর্মীয় শহরের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি।
- রাজ্যসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিলেন নীতীশ কুমার
- গ্রেফতারি থেকে খানিক স্বস্তি, পবন খেরার আগাম জামিন মঞ্জুর তেলঙ্গানা হাইকোর্টের
অন্যদিকে, কংগ্রেস মহানগর সভাপতি আমান গার্গ জানিয়েছেন, তাঁদের দল মাংস, মদ ও ডিম বিক্রির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে প্রয়োগের পক্ষেই রয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র মাংসের দোকান শহরের বাইরে সরিয়ে দিলেই ধর্মীয় অনুভূতি সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত হবে না। পাশাপাশি মদ ও ডিম বিক্রির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা একইভাবে কঠোরভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন। অর্ধ কুম্ভ মেলার আগে শহরের ধর্মীয় পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুর প্রশাসন। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে আরও টানাপড়েন বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

