Truth Of Bengal: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দুর্নীতির অভিযোগে রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়ে খবরের শিরোনামে এলেন তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি বিধানসভার কঙ্কনদিঘি এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। শাসক দলের নেতার এই পদক্ষেপে স্থানীয় বাসিন্দারা খুশি হলেও, বিষয়টিকে 'নাটক' বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, কঙ্কনদিঘি এলাকায় পুতুল ঘোষের বাড়ি থেকে পুতুল কর্মকারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার ৭০০ মিটার দীর্ঘ একটি কংক্রিট রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। ৯৬ লক্ষ ৯৩ হাজার ৬৭৩ টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পের বরাত পেয়েছিল আসাদুল মোল্লা নামে একটি নির্মাণ সংস্থা। কিন্তু কাজ শুরু হতেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, সঠিক নিয়ম মেনে রাস্তা তৈরি হচ্ছিল না; ইটের ওপর নামমাত্র সাদা বালি ফেলে এবং অত্যন্ত কম পরিমাণ সিমেন্ট দিয়ে ঢালাইয়ের তোড়জোড় চলছিল। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা ছিল, এভাবে কাজ হলে কয়েক দিনেই রাস্তাটি ভেঙে পড়বে।
- হাজার কোটির 'ডিল' বিতর্ক: তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি হুমায়ুন কবীরের
- 'শক্তিরূপেণ সংস্থিতা', স্মৃতি ইরানিকে পাশে রেখে নতুন রূপে অভয়ার মায়ের মনোনয়ন পেশ
অনিয়মের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হন স্থানীয় তৃণমূল সদস্য বাপ্পা মাইতি। তিনি কাজের মান খতিয়ে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তৎক্ষণাৎ নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। শাসক দলের নেতার এই কঠোর অবস্থানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের মতে, স্থানীয় নেতৃত্বের এমন নজরদারি থাকলে উন্নয়নের কাজে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
তবে এই ঘটনাকে আমল দিতে নারাজ বিজেপি। রায়দিঘি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানার দাবি, পুরো বিষয়টিই আসলে সাজানো নাটক। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিজেপির দাবি, এক নেতা লোকদেখানো কাজ বন্ধ করলেও অন্য গোষ্ঠী ফের সেই নিম্নমানের কাজই চালু করে দিচ্ছে। ভোটের মুখে একদিকে উন্নয়নের স্বচ্ছতা প্রমাণে তৃণমূলের তৎপরতা, অন্যদিকে বিজেপির দুর্নীতির অভিযোগ- সব মিলিয়ে কঙ্কনদিঘির এই রাস্তা সংস্কারের ইস্যুটি এখন সরগরম রায়দিঘির রাজনীতিতে। শেষ পর্যন্ত সঠিক মান বজায় রেখে কবে এই রাস্তা সম্পন্ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে এলাকাবাসী।

