Truth of Bengal: রাহুল চট্টোপাধ্যায়: পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক,রাজ্যের মন্ত্রী ড. শারদ্বত মুখার্জি ও অশোক দিন্দা, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) সভাপতি কল্যাণ চৌবে র নেতৃত্বে 'ফিট ইন্ডিয়া সানডেজ অন সাইকেল'-এ বিশ্ব সাইকেল দিবস উদযাপিত হলো।
রবিবার সল্টলেকের বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (সল্টলেক স্টেডিয়াম) 'ফিট ইন্ডিয়া সানডেজ অন সাইকেল' কর্মসূচির আওতায় বিশ্ব সাইকেল দিবস ২০২৬-এর এক বর্ণাঢ্য উদযাপন অনুষ্ঠিত হলো, যেখানে ৫,০০০-এরও বেশি স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমী অংশ নেন। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এসএআই)-এর নেতাজি সুভাষ ইস্টার্ন সেন্টারের আঞ্চলিক অধিকর্তা শিবানন্দ মিশ্র, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া বিভাগের প্রধান সচিব রাজেশ কুমার সিনহা, বিশেষ সচিব দীনেশ চন্দ্র মণ্ডল, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, প্রখ্যাত অলিম্পিয়ান সোমা বিশ্বাস, বোম্বাইলা দেবী লাইশরাম।
- অরূপ-স্বরূপের ফ্ল্যাটে বিশাল পুলিশবাহিনী, মেসি-কাণ্ডে তদন্তে নয়া মোড়
- মেসি-কাণ্ডে রক্ষাকবচ পেলেন না অরূপ, "নিয়ম মেনেই শুনানি", বলল হাই কোর্ট
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী ড. মনসুখ মান্ডভিয়া কর্তৃক সূচিত 'ফিট ইন্ডিয়া সানডেজ অন সাইকেল' কর্মসূচিটি বর্তমানে সাইকেল চালানোর মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং পরিবেশ সচেতনতা প্রসারের লক্ষ্যে একটি দেশব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।মূল সাইকেল র্যালি ছাড়াও অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিনোদনমূলক ও শারীরিক কসরত-ভিত্তিক কার্যকলাপে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল যোগব্যায়াম, দড়ি লাফ (রোপ স্কিপিং), জুম্বা, ডার্টস, সাপ-লুড, লুড সহ অন্যান্য মজাদার চ্যালেঞ্জ।সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে ভাষণ দেওয়ার সময় রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক সারা দেশে সুস্থতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,এটি ভারত সরকারের একটি অনন্য উদ্যোগ। ফিটনেস বা শারীরিক সুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সবাইকে সক্রিয় থাকতে উৎসাহিত করে। ফিটনেস-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে সাইকেল চালানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। মাত্র ৩০ মিনিটের সাইকেল চালানো স্বাস্থ্যের উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের আয়োজন ২০৩৬ সালে ভারতে অলিম্পিক গেমস আয়োজনের আমাদের আকাঙ্ক্ষাকেও আরও শক্তিশালী করবে। এই মহৎ উদ্দেশ্যে যারা একত্রিত হয়েছেন এবং একটি অধিকতর ফিট ও সুস্থ ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন, তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ক্রীড়া মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে ক্রীড়া পরিকাঠামো ও পরিবেশকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে রাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক পদকজয়ীদের জন্য নগদ পুরস্কারের পরিমাণ বৃদ্ধি এখন থেকে স্বর্ণপদক জয়ীরা ৮ কোটি টাকা, রৌপ্যপদক জয়ীরা ৭ কোটি টাকা এবং ব্রোঞ্জপদক জয়ীরা ৬ কোটি টাকা পুরস্কার পাবেন। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, যোগ্য ক্রীড়াবিদদের তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরি দেওয়া হবে, যার সর্বোচ্চ পদমর্যাদা হবে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি)-এর সমান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ড. শারদ্বত মুখার্জি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, 'ফিট ইন্ডিয়া সানডেজ অন সাইকেল'-এর মতো উদ্যোগগুলো পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া-রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।একটি ফিট ও সুস্থ ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যে ভিশন বা লক্ষ্য রয়েছে, তার প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রীই 'ফিট ইন্ডিয়া' এবং 'খেলো ইন্ডিয়া'-র মতো এমন যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেননি, যা সারা দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।দেশব্যাপী এই সাইক্লিং আন্দোলনে ইতিমধ্যেই ৩০ লক্ষেরও বেশি ফিটনেস-উৎসাহী মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন, যা এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও প্রভাবকেই তুলে ধরে।অনুষ্ঠানস্থলে একটি বিশেষ ক্রীড়া ও কার্যকলাপের জোনও তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের পুশ-আপ প্রতিযোগিতা, জাম্পিং চ্যালেঞ্জ, ডার্ট প্রতিযোগিতা এবং ঐতিহ্যবাহী ইনডোর গেমসের মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়।
'ফিট ইন্ডিয়া সানডেজ অন সাইকেল' কর্মসূচিটি ভারত সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রক কর্তৃক স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (সাই)-এর সহযোগিতায় এবং সাইক্লিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (সিএফআই)-এর সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনে ২৫০ জনেরও বেশি ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (এন সি সি) ক্যাডেটের পাশাপাশি ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (এন এস এস), বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বি এস এফ), সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ), ভারতীয় সেনাবাহিনী, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ), পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা ও এর আশেপাশের বহু স্কুলের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করেন।ফিটনেসকে একটি গণ-আন্দোলনে পরিণত করার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করতে, এসএআই (সাই)-এর আঞ্চলিক কেন্দ্র, ন্যাশনাল সেন্টারস অফ এক্সিলেন্স, এসএআই ট্রেনিং সেন্টার, খেলো ইন্ডিয়া স্টেট সেন্টারস অফ এক্সিলেন্স এবং খেলো ইন্ডিয়া সেন্টার -এর মাধ্যমে দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে এই সাইক্লিং কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।

