Truth Of Bengal: অবশেষে দীর্ঘদিনের ইচ্ছাপূরণ হল জেডিইউ প্রধান ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের। টানা প্রায় দু'দশক ধরে বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব সামলানোর পর এবার রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে সংসদে ফিরলেন তিনি। শুক্রবার রাজ্যসভার সদস্য পদে শপথ নিলেন নীতীশ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণনের দফতরে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে নীতীশকে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।
সূত্রের খবর, নীতীশ ইতিমধ্যেই বিহারের বিধান পরিষদের সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী, পদত্যাগ না করেও তিনি আরও ছ'মাস মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে পারেন। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, সেই সম্ভাবনা কার্যত নেই। কারণ খুব শীঘ্রই তিনি মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে পারেন এবং বিজেপির কোনও নেতা-সম্রাট চৌধরি বা নিত্যানন্দ রাই-বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বলে খবর। এমনকী জল্পনা, নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমার উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ পেতে পারেন।
- দু'দশকের রাজপাটে ইতি! রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন নীতীশ
- তামিলনাড়ুতে এবার 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' মডেল! ডিএমকে-কে রুখতে মহিলাদের জন্য প্রতিশ্রুতি বিজেপির
রাজ্যসভায় শপথ নেওয়ার পর নীতীশ কুমার রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে একটি বিরল কৃতিত্বও অর্জন করলেন। তিনি একই সঙ্গে দেশের চারটি আইনসভা কক্ষ-বিধানসভা, বিধান পরিষদ, লোকসভা এবং রাজ্যসভা-এই চারটিরই সদস্য থাকার নজির গড়লেন। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এদিন তিনি নিজেই বলেন, রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার শখ বহুদিনের ছিল এবং সেটিই এবার পূরণ হল। এদিকে নীতীশের রাজ্যসভায় প্রত্যাবর্তনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে মোদি লেখেন, নীতীশ কুমার দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ নেতা এবং সুশাসনের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা সর্বত্র প্রশংসিত। মোদির বক্তব্য, নীতীশের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সংসদের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জানান, বিহারের উন্নয়নে নীতীশের অবদান অনস্বীকার্য এবং তাঁকে আবার সংসদে দেখা আনন্দের বিষয়। নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বিহারের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। এনডিএ শিবিরের অন্দরমহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছে, ১৪ এপ্রিল নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন হতে পারে। ফলে রাজ্যসভায় নীতীশের শপথ গ্রহণের পর বিহারের ক্ষমতার পালাবদল এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

