গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোটের মুখে আবারও শিরোনামে রায়দীঘি বিধানসভা। রাস্তা, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল দশা থেকে শুরু করে সরকারি আবাসনের টাকা বণ্টন নিয়ে উঠছে একের পর এক অভিযোগ, ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে এবং রাজনৈতিক তরজাও পৌঁছে গেছে চরমে।
একদিকে শাসক দলের দাবি, গত কয়েক বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে-নতুন রাস্তা, আবাসন প্রকল্প ও সামাজিক সুরক্ষায় নজিরবিহীন কাজ হয়েছে বলে তারা মনে করছে।
অন্যদিকে বিরোধীদের পাল্টা অভিযোগ, এই উন্নয়নের আড়ালেই চলছে দুর্নীতি; এমনকি অভিযোগ উঠেছে, মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া আবাসনের টাকা প্রকৃত প্রাপকের হাতে না গিয়ে অন্যদের পকেটে চলে যাচ্ছে।
- "মমতা যা করছেন, তা ওনার কাজ নয়!" ডায়মন্ড হারবারে বিস্ফোরক মন্তব্য বিপ্লব দেবের
- 'বাংলার দিকে তাকালে মুছে যাবে পাকিস্তান!', মমতার প্রশ্নের মুখে পড়তেই হুঙ্কার রাজনাথের
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে বর্ষায় চলাচল দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়, আর ঘরের জন্য নাম উঠলেও সেই টাকা হাতে পাননি অনেকেই। এই পরিস্থিতিতে রায়দীঘিতে এবার ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে-শাসক দলের তাপস মণ্ডল উন্নয়নের দাবিতে এগোতে চাইছেন, বিজেপির পলাশ রানা দুর্নীতির ইস্যুতে আক্রমণ শানাচ্ছেন, আর বামফ্রন্ট প্রার্থী প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলীর ছেলে সাম্য গাঙ্গুলী নীরবে জমি শক্ত করে চমক দিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, রায়দীঘির ভোট নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর-উন্নয়নের দাবি যদি মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হয়, তাহলে সুবিধা পাবে শাসক দল; কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ যদি ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়, তাহলে পাল্লা ভারী হতে পারে বিরোধীদের দিকে। এখন সবার নজর একটাই প্রশ্নে-উন্নয়নের জয়, না দুর্নীতির প্রতিবাদ? ভোটের ফলেই মিলবে সেই উত্তর।

