Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
সিআইডি-র প্রশ্নে মেজাজ হারালেন অভিষেক! সব কিছুতেই দিলেন "জানি না" উত্তর, মাঝরাতে ছাতায় মুখ ঢেকে ছাড়লেন কালীঘাট

সিআইডি-র প্রশ্নে মেজাজ হারালেন অভিষেক! সব কিছুতেই দিলেন "জানি না" উত্তর, মাঝরাতে ছাতায় মুখ ঢেকে ছাড়লেন কালীঘাট

Truth Of Bengal 2 months ago

Truth of Bengal: সই জাল-কাণ্ডে দীর্ঘ টালবাহানা এবং কলকাতা হাইকোর্টের কড়া ধমক খাওয়ার পর বৃহস্পতিবার অবশেষে ভবানী ভবনে সিআইডি (CID) দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। কিন্তু সাড়ে ৫ ঘণ্টার সেই ম্যারাথন জেরার অন্দরমহল থেকে এখন যে সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে, তা এক প্রকার নজিরবিহীন।

সিআইডি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, জেরা চলাকালীন তদন্তকারীদের একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্নে এক সময়ে রীতিমতো মেজাজ হারান তৃণমূলের 'সেনাপতি'। শুধু তাই নয়, সই জালের মূল পাণ্ডুলিপি অর্থাৎ দলের 'রেজোলিউশন কপি' সংক্রান্ত প্রায় সমস্ত প্রশ্নের জবাবেই অভিষেক নাকি স্পষ্ট লাইনে জানিয়েছেন, "আমি জানি না।"

১০ অফিসারের বাউন্সার এবং অভিষেকের "জানি না" তত্ত্ব

ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার পর প্রথমে ৬-৭ জন অফিসার অভিষেককে হালকা জিজ্ঞাসাবাদ করলেও, রাত বাড়তেই সিআইডি-র এডিজি (ADG) সুপ্রতিম সরকারের নেতৃত্বে ১০ জন দুঁদে অফিসারের একটি মেগা টিম জেরা শুরু করে। গোয়েন্দাদের তূণ থেকে একের পর এক কঠিন প্রশ্ন ধেয়ে যায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের দিকে। মূল প্রশ্ন ছিল, গত ৬ মে কালীঘাটের বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত না থাকার পরেও নিখোঁজ বিধায়কদের সই কীভাবে বিধানসভায় জমা দেওয়া চিঠিতে এল? কে বা কারা এই সই জাল করল? আসল রেজোলিউশন বুকটি কোথায়?

 চিত্র- সংগৃহীত

তদন্তকারী সূত্রে খবর, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ খোলেননি এবং মেজাজ হারিয়ে অসহযোগিতা করেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই জবাবে একেবারেই খুশি নন সিআইডি আধিকারিকরা। আর সেই কারণেই আগামী রবিবার (১৪ জুন) রেজোলিউশন সংক্রান্ত বেশ কিছু আসল নথি সঙ্গে নিয়ে তাঁকে ফের ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কী এই 'সই জাল' কাণ্ড? কেন জড়িয়ে পড়লেন অভিষেক?

এই গোটা রহস্যের সূত্রপাত ছাব্বিশের ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক পর। গত ৬ মে কালীঘাটে বিধায়কদের নিয়ে এক বৈঠক ডাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সর্বসম্মতিতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) নাম হাত তুলে সমর্থন করা হয়। কিন্তু নিয়ম মেনে সেই প্রস্তাবনাপত্র বিধানসভায় জমা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে শপথগ্রহণের পর, বিধানসভার সচিব তৃণমূলের কাছে লিখিত প্রস্তাবপত্র চান।

 চিত্র- সংগৃহীত

সেই মতো ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডেকে উপস্থিত বিধায়কদের সই নেওয়া হয় এবং ক'জন গরহাজির তা মেলানো হয়। পরবর্তীতে ৭০ জন বিধায়কের সই করা একটি কাগজ 'বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র' হিসেবে বিধানসভায় জমা দেয় তৃণমূল। আর এখানেই ঘটে আসল কেলেঙ্কারি। শপথগ্রহণের খাতার সইয়ের সঙ্গে এই কাগজের সইয়ের আকাশ-পাতাল গরমিল মেলায় খটকা লাগে বিধানসভার সচিবের। জল গড়ায় থানা ও সিআইডি-তে। দলেরই এক 'বিদ্রোহী' বিধায়ক সরাসরি এই সই জালের নেপথ্যে অভিষেকের দিকে আঙুল তোলায় সিআইডি-র রাডারে আসেন তিনি।

মাঝরাতে ছাতায় মুখ ঢেকে প্রস্থান!

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ভবানী ভবন থেকে ছাড়া পেয়ে অভিষেক সোজা চলে যান কালীঘাটে দলনেত্রীর বাসভবনে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বেশ কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতাকে নিয়ে এক জরুরি বৈঠক হয়। রাত ১২টা বেজে ১০ মিনিট নাগাদ যখন সেই বৈঠক শেষ হয়, তখন তৈরি হয় এক চরম নাটকীয় মুহূর্ত। মিডিয়ার ক্যামেরা এড়াতে এবং নিজের মুখ লুকাতে একটি বড় কালো ছাতার আড়ালে নিজেকে সম্পূর্ণ ঢেকে গাড়ি অবধি হেঁটে যান অভিষেক। জিজ্ঞাসাবাদ বা আগামী রবিবারের পুনরুত্থান নিয়ে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দেননি তিনি। ছাব্বিশের সংকটের আবহে এই 'ছাতা-রহস্য' এখন বাংলার রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Truth Of Bengal