Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
সোমবার সিআইডি-র ডাকে কি সাড়া দিতে পারবেন 'অসুস্থ' অভিষেক?

সোমবার সিআইডি-র ডাকে কি সাড়া দিতে পারবেন 'অসুস্থ' অভিষেক?

Truth Of Bengal 4 months ago

Truth of Bengal: সোনারপুরে নজিরবিহীন ও হিংসাত্মক হেনস্থার শিকার হওয়ার পর কলকাতার দুটি প্রথম সারির কর্পোরেট হাসপাতাল থেকে কার্যত 'ফিট' সার্টিফিকেট নিয়ে রাতেই কালীঘাট রোডের নিজ বাসভবনে ফিরেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতাল ও পরবর্তীতে মিন্টো পার্কের হাসপাতাল, উভয় জায়গাতেই প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন যে, তাঁর শরীরে কোনও গুরুতর চোট নেই এবং হাসপাতালে ভর্তি রাখারও কোনও প্রয়োজন নেই।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জখম সাংসদকে সোজা বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান। তবে হাসপাতাল ফিরিয়ে দিলেও ঝুঁকি না নিয়ে সাংসদের বাড়িতেই গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী হাসপাতালের পরিকাঠামো। জানা গিয়েছে, ভাইপোর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগের কারণে গভীর রাত পর্যন্ত অভিষেকের বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চিকিৎসক ও দলীয় সূত্রের খবর, আচমকা ঘিরে ধরে চশমা-ঘড়ি ভেঙে মারধরের এই আকস্মিক ঘটনায় শারীরিকভাবে যথেষ্ট বিপর্যস্ত ও ট্রমার মধ্যে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। শনিবার রাতেই তাঁর তীব্র গা বমি ভাব ছিল এবং রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার বারবার ওঠানামা করছিল। শারীরিক অস্বস্তি কমাতে রাতের পর রবিবার সকালেও তাঁকে একবার অক্সিজেন দিতে হয়েছে এবং হাতজুড়ে স্যালাইনের চ্যানেল করে ওষুধ দেওয়া চলছে। আপাতত চব্বিশ ঘণ্টা একজন আইসিইউ (ICU) ট্রেন্ড নার্সের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে অভিষেককে, এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর চিকিৎসকেরা এসে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। উল্লেখ্য, অভিষেকের চোখে আগে থেকেই একটি গুরুতর পুরনো সমস্যা রয়েছে; গতকালের হামলায় তাঁর চোখের চশমাটি ভেঙে যাওয়ায় চোখের ভেতরের অংশে নতুন করে কোনও আঘাত বা রেটিনার সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না, চিকিৎসকেরা এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেদিকটিও পর্যবেক্ষণ করছেন।

অভিষেকের এই শারীরিক সংকটের মাঝেই জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক নতুন সমীকরণ। সনিবারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে খোলসা করেছিলেন যে, অভিষেকের ওপর হামলার খবর পেয়ে স্বয়ং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁকে ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য অভিষেককে দ্রুত হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তৃণমূলের অন্দরমহল সূত্রে জানা গিয়েছে, রাহুল গান্ধী পরামর্শ দিলেও এখনই অভিষেককে চিকিৎসার জন্য হায়দরাবাদে বা ভিন রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার কোনও জরুরি পরিকল্পনা পরিবারের নেই। চিকিৎসকেরা তাঁকে আপাতত ঘরের ভেতরেই সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার এবং সম্পূর্ণ আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সংক্রমণ ও ধকল এড়াতে বর্তমানে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে বহিরাগত বা সাধারণ নেতা-কর্মীদের আসার ক্ষেত্রেও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এই হোম-কেয়ার পরিকাঠামোয় তাঁর শারীরিক উন্নতি কেমন হয়, তা দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ বা হায়দরাবাদ যাত্রার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে, এই চরম শারীরিক অসুস্থতা ও রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই সোমবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে তলব করেছে সিআইডি (CID)। রাজ্য বিধানসভার একটি হাইপ্রোফাইল 'জাল সই' কাণ্ডের তদন্তে শনিবার দুপুরেই প্রথমে তাঁর হরিশ মুখার্জী রোডের বাসভবনে পৌঁছে যান সিআইডি গোয়েন্দারা। সেখানে সাংসদকে না পেয়ে পরবর্তীতে কালীঘাট রোডের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েই নাটকীয়ভাবে অভিষেকের হাতে এই হাজিরার নোটিস ধরানো হয়, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে সোমবারই তাঁকে ভবানীভবনে উপস্থিত হতে হবে। কিন্তু সোনারপুরের ঘটনার পর বর্তমান যা শারীরিক পরিস্থিতি, তাতে সোমবার সিআইডির এই হাইপ্রোফাইল তলবে অভিষেক আদৌ সাড়া দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। যেহেতু চিকিৎসকেরা তাঁকে বাড়ি থেকে না বেরনোর এবং কড়া বিশ্রামের লিখিত পরামর্শ দিয়েছেন, তাই আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে অভিষেক সুস্থ হওয়ার দোহাই দিয়ে সিআইডির কাছে আরও কিছুদিন সময় চেয়ে নেন, নাকি সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে সোমবারই তাঁর 'এক্স' (X) ক্যাটাগরির কড়া নিরাপত্তা বলয় নিয়ে সোজা ভবানীভবনে হাজিরা দিতে পৌঁছে যান, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ছাব্বিশের বাংলার রাজনৈতিক মহল।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Truth Of Bengal